ACI Motors Ltd.
Hotline: 16509

স্বচ্ছ স্থিতিশীল পলিসি ও শক্তিশালী ডেইরি বোর্ড অতি জরুরি

Date: 14 Sep 2017

গরু থেকে কিন্ত অনেক ধরনের উপাদান পাওয়া সম্ভব। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দিকে তাকালে বলতে পারি যে, তারা গোবরকে সার হিসেবে জমিতে দিয়ে ভালো ফসল উৎপাদন করতে পারছে। গরুর দুধ ও মাংস বিক্রি করে সে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে; অন্যরা দুধ ও মাংস খেয়ে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারছে। গরুর চামড়া অন্যতম অর্থকরী পণ্যের সংস্থান দিচ্ছে। তার মানে, আপনি যদি সঠিকভাবে গরু পালন করতে পারেন; তাহলে এটি অমিত সম্ভাবনাময় একটি খাত হবে। গো সম্পদকে কেন্দ্র করে সরকার আরো ভাবতে পারে। আরো বেশি উৎপাদন অর্থাৎ বৃহৎ শিল্প খাতের মাধ্যমে আমাদের জিডিপি আরো দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে – আজকের বাজার ও আজকের বাজার টেলিভিশন এবিটিভির কাছে বাংলাদেশে গরু পালনের অর্থনীতির বিশদ সম্ভাবনার কথা বলেছেন এসিআই এগ্রিবিজনেসের এমডি, ড.এফ এইচ আনসারী। তাঁর সঙ্গে কথপোকথনের চুম্বক অংশ তাঁরই ভাষায় প্রকাশ করা হলো।

দেশের অর্থনীতিতে গরু পালনের ভূমিকা ব্যাপক

আসলে ৫০ থেকে ১০০ বা ২০০ গরু নিয়ে আপনি আধুনিকভাবে একটা খামার স্থাপন করতে পারেন। এতে করে সারা দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। ফলে তারা দুধ পাবে, মাংস পাবে, সার পাবে। এই মডেলটি কিন্ত তখন ভালো একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারবে।

আমাদের দেশের জন্য ডেইরি ও ক্যাটল ফার্ম, অত্যন্ত সুইটেবল ও এপ্রোপ্রিয়েট একটি বিষয়। কারণ আমাদের দেশে প্রচুর মানুষ বাস করে। তাদের জন্য প্রোটিন জাতীয় খাবার, যেমন, মাংসের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আমাদের দেশে মধ্যবিত্ত পরিবারের সংখ্যা প্রায় এক কোটির মতো। তারা গরুর মাংস ও দুধ কিনে খেতে পারে। এ দেশের মানুষ প্রায় চার-পাঁচ হাজার কোটি টাকার সফট ড্রিংকস ও তরল পানি কিনে খাচ্ছে। এ বিষয়টিও কিন্ত দুধের একটা বড় বাজার হতে পারে। তাছাড়া আমরা চামড়া প্রসেস করে আন্তর্জাতিক বাজারে অবদান রাখছি। এ শিল্পটা আমাদের অনেক পুরোনো ব্যবসা। আমরা জানি, এ ব্যবসা কী করে করতে হয়। আবার এদেশে অর্গানিক সারের খুব অভাব। গরুর গোবরকে কাজে লাগিয়ে এই সারের অভাবও পূরণ করা যায়। তাছাড়া অনেক রিমোট এলাকায় এখনও গ্যাসের সরবরাহ নেই। সেখানে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরি করে আমরা গ্যাসের অভাব পূরণ করতে পারি।

যারা গরু লালন পালন করবে তারা কিভাবে এ প্রক্রিয়ায় উন্নতি করবে এটা জানা জরুরি। আসলে দেশের প্রান্তিক মানুষ যারা গরু পালনে আগ্রহী; তারা বেশিরভাগ সময়ই সঠিক তথ্য জানতে পারেন না। তারা জানেন না, উন্নত সিমেন কোথায় পাওয়া যায় কিংবা যারা এ ধরনের সীমেন সরবরাহ করে তাদের সাথে কিভাবে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। আমাদের চিন্তা করতে হবে, প্রাইভেট কোম্পানিগুলো ঠিক কেমন করে কাজ করবে, তারা কিভাবে সবার সঙ্গে সাচ্ছ্যন্দে কাজ করতে পারবে। এই ব্যবসায় সরকার কী পলিসি তাদের সঙ্গে প্রয়োগ করবে । আমার ধারণা, বিদেশি কোম্পানিগুলো এই ব্যবসায় তাদের টাকা লগ্নি করবে। কারণ তারা জানে এদেশের বাজার অনেক বড়। এমন হলে সার্বিকভাবে আমাদের অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে। দরকার ভালো পলিসি

এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে, প্রান্তিক সাধারণ মানুষ যারা দুধ উদপাদন করেন, যারা স্বল্প সংখ্যক গরু মোটাতাজা করেন, বিদেশিরা এলে তাদের অবস্থা কী হবে?

সাধারণত দেখা যায়, সারা বিশ্বেই কিন্ত ছোট ছোট আকারে বিভিন্ন ধরনের গরুর খামার রয়েছে। তারা কেমন করে চলে? তাদের ওই সব কোম্পানি প্রয়োজনীয় সিমেন দেয়, খাবার দেয়, গরুর স্বাস্থ্যের জন্য চিকিৎসা সামগ্রী সাপ্লাই দেয়, অর্থাৎ সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে। এর পর তারা ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ করে। এর মাধ্যমে তারা খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে। যারা দুধ প্রসেস্ করে তারা প্রসেসিংয়ে যায় । যারা মাংস সংগ্রহ করে তারা মাংস প্রসেস করে বাজারে সাপ্লাই দেয় আবার বিদেশে রপ্তানি করে। এ থেকে আসলে কী বোঝা যায়? বোঝা যাচ্ছে, আমাদের লাগবে ভালো পলিসি।

পলিসির ব্যাপারে যা বলতে চাই : সব কিছুই সঠিকভাবে সম্ভব হবে যদি আমাদের পলিসিগুলো স্বচ্ছ এবং তার ধারাবহিকতা থাকে। পলিসিতে যা লিখা থাকবে সেভাবেই তা অনুসরণ করা হবে; এর পরিবর্তন হবে না। এবং একটা শক্ত সক্ষম বোর্ডের মাধ্যমে তা পরিচালিত হবে। তাহলেই দেখা যাবে, এখানে বিনিয়োগের জন্য দেশি-বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসছে। ফলে বৃহৎ প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে এককভাবে গরু পালনকারী, সবাই সমানভাবে উপকৃত হবে। ধনী গরীবের ফারাক থাকবে না।

আমাদের দরকার ডেইরি বোর্ড : পলিসি সাপোর্ট করার জন্য প্রয়োজন হবে ডেইরি বোর্ড। স্বতন্ত্র এই বোর্ড থাকবে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয়ের অধীনে। বোর্ড সব সময় তাদের সার্বিক কার্যক্রমের রিপোর্ট করবে মন্ত্রণালয়ে। তখন সাধারণ মানুষ আর প্রাইভেট প্রতিনিধি হবেন সমান। বোর্ড সিদ্ধান্ত নিবে যে, তারা কিভাবে দেশের গো সম্পদ সুরক্ষা করবে, কিভাবে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করবে, ছোট বড় খামারকে সহযোগিতা করবে। এই সমস্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা নির্ধারণ করবে যে তারা কিভাবে এগোবে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও ডেইরি বোর্ড গঠন করা হচ্ছে। কিন্ত ভয় লাগে যে এই বোর্ডের রেপুটেশন কেমন থাকবে; বোর্ডের সদস্য যারা থাকবেন তারা কেমন হবেন এসব নিয়ে। দেখা গেল, বোর্ডের মেম্বার দু'একজন থাকলেন রেপুটেড আর বাকি সব সরকারি কর্মচারি তা হলে ঘুরে ফিরে সেই ডিএলএস এর মতো একটি সংগঠন না তৈরি হয় আবার। সেখানে তাহলে স্বাধিনভাবে কোন কিছু করার থাকবে না। আমি চাই এমন একটা বোর্ড গঠন করা হবে যেখানে প্রাইভেট সদস্যরা থাকবেন অর্ধেক আর পাবলিক সদস্য থাকবেন অর্ধেক। সেখানে যারা গরু পালন করেন তারা থাকবেন, ফীড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধি থাকবে,যারা ডেইরি চেইন করেছেন তাদের প্রতিনিধিরাও থাকবেন। নীট চেইন যারা করেছেন তারাও থাকবেন। সব মিলিয়ে একটা ভালো ও শক্ত বোর্ড হবে। আর পলিসি থাকবে ধারাবাহিকভাবে ৫০ বছরের জন্য। তখন প্রাউভেট কোম্পানি, বিদেশি কোম্পানি সবই আসতে পারবে। আর এমন স্থায়ী ও ধারাবাহিক পলিসির কারণে বিদেশিরা এখানে বিনিয়োগ করতে আসবে

বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ : আসলে দেখতে হবে যে, মার্কেট সাইজ কত বড়। অভ্যন্তরীণ মার্কেট কত বড় এবং পজিশনিং মার্কেট কত বড় আছে সেটা জানা খুবই গুরুত্তপূর্ণ। আমরা সবাই ভালো করে জানি যে আমাদের অভ্যন্তরীণ মার্কেট অনেক বড়। এবং আমাদের মধ্যবিত্ত জনসংখ্যাও কম নয়। আমাদের দেশে চাহিদা অনুযায়ী তরল দুধের বাজারও অনেক বড়। আমাদের অনেক পরিসংখ্যান রয়েছে যেগুলোকে বিশ^াস করার প্রয়োজন নেই। সে তুলনায় আমাদের দুধ উৎপাদনের হার অনেক কম। কিন্ত এর সম্ভাবনা প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার মতো। এ দেশে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আসেন কিন্ত যখন দেখে যে, আমাদের পলিসিগুলো ট্রান্সপারেন্ট না, ধারাবাহিক না, তখন তাদের আগ্রহ কমে যায়। সেক্ষেত্রে আমাদের পলিসি হতে হবে স্বচ্ছ ও ধারাবাহিক। যা পড়ে যে কেউ সঠিক ধারণা নিয়ে এগোতে পারে। আর তখনই তারা আগ্রহী হয়ে এগিয়ে আসবে বিনিয়োগে। আমি মনে করি আমাদের দেশে প্রতিদিন দুধ উৎপাদনের জন্য অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী আসছে। এসে এদিক সেদিক দেখে, চারপাশের অবস্থা বিবেচনা করে তারা ভাবছে আসলে তারা কি করবে। আসলে একটা পলিসি কতটা স্বচ্ছ, কেন বারবার পরিবর্তন হচ্ছে, আগের পলিসি কী ছিল এখন কেমন, সরকার কতটা সহযোগিতা করছে, বর্তমান বিনিয়োগকারীরা কেমন করছে এসব ব্যাপারে আসলে দ্বিধা কাজ করে। আজ পোলট্রি সেক্টরের দিকে দেখেন, যেখানে অনেক বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। সিপি করেছে, নিউ হোপ করেছে। একইভাবে কিন্ত দুধ উৎপাদন বা গরু পালনেও সেই বিনিয়োগ হতে পারে।

বিদেশিরা কিভাবে তাদের বিনিয়োগ করবে : আসলে দেখা যায়, চাইলেই তো আর তারা এখানে চলে আসতে পারে না। তাদের যৌথভাবে বিনিয়োগ করতে হবে। এবং সেটাই হয়। কারণ ভিন্ন দেশ, ভিন্ন কালচার, ভিন্ন পরিবেশ। আর জনশক্তিও এখানে আলাদা। এজন্য অভ্যন্তরীণ সব কিছু বিবেচনা করে তাদের অ

বশ্যই যৌথভাবে বিনিয়োগ করতে হয়। আর যারা আসছে বা আসার চিন্তা করছে তারা কিন্ত লোকাল পার্টনার নিয়েই ব্যবসা শুরু করবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় বিনিয়োগকারীও তো বেশি নেই। এর কারণ আমাদের স্বচ্ছ নীতিমালার অভাব,

সরকারের সহযোগিতার অভাব। ভালো ব্রিড উৎপাদন ছাড়া আমাদের ক্যাটেল ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর এজন্য উন্নতমানের বিনিয়োগের প্রয়োজন। তার জন্য দরকার স্বচ্ছ ও ধারাবাহিক নীতিমালার।

সরকারি উদ্যোগের কী অবস্থা : আমরা দেখেছি, সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। তারা তাদের পলিসি অনুযায়ী কাজ করছে। সেক্ষেত্রে আমরা কৃষক বা স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করে বুঝেছি যে, তারা অনেক ভালো করছে এবং তারা অনেক আত্মবিশ্ববাসী। তাদের অনেকের গরুর ওজন আড়াই বছরে প্রায় ৬০০ কেজি হয়েছে । আসছে বছরে এর ওজন হবে এক টন । এর জন্য বাড়তি কোনও কিছুর প্রয়োজন পড়ে না। স্বাভাবিকভাবে গেরস্তরা যেভাবে গরু পালে তারা সেভাবেই লালন পালন করছে, খাবারেও তাই। শুধু বাড়তি একটু যত্ন নিয়েছে তারা। বেলজিয়াম ব্লু নামে গরুর একটি ব্রীড আছে । এই জাতের গরু আড়াই থেকে তিন বছরে প্রায় দুই টন ওজনের হয়ে যায়। এটা আরো প্রো-এক্টিভ। এ ব্যাপারে অনেক পশু বিজ্ঞানীদের সাথে কথা বললে তারা হাসাহাসি করেন। তারা মনে করেন, এতো হাই টেম্পারেচারে এরকম গরু পালন সম্ভব হবে কি না। আমার মনে হয় দেশে সবকিছুই তো অভ্যস্ত হয়েছে। ফার্মের সাদা ব্রয়লার মানিয়ে নিতে তো অনেক বছর সময় নিয়েছে। তাতে কি এখন কি সেটা উৎপাদন হচ্ছে না? হচ্ছে তো। এখন আমাদের দেশের মানুষ পোল্ট্রি উৎপাদন করতে সক্ষম, তারা জানে কিভাবে খাবার দিতে হয়, কিভাবে ঔষধ দিতে হয়, কিভাবে পরিচর্যা করতে হয়। আসলে এটা একটা চর্চার ব্যাপার। সঠিক নিয়মে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে বেলজিয়ান ব্লু কেন সম্ভব নয়?

এসিআই এজন্য কী করছে : আমরা সিমেন উৎপাদন করছি,উন্নতমানের মাংসের জন্য ষাড়ের স্টেশন করছি। দুধ উৎপাদনের জন্য আমরা খুব শিগগিরই কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি। আমরা ক্যাটেল মেডিসিনেও বেশ ভালো করছি। ক্যাটেল হাইজেনিক সেন্টার করেছি, ক্যাটেল ডায়াগনস্টিক সেন্টার করেছি। সেখান থেকে আমরা সব রকমের সেবা দিচ্ছি।

আমাদের দেশে কী পরিমাণ গরুর চাহিদা রয়েছে : আসলে সারা দেশের চাহিদা অনুসারে দেশে ২ কোটি বা সোয়া দুই কোটি গরুর চাহিদা কোনো না কোনোভাবে থাকেই। তার মানে, রোলিং আকারে সেটি তো চলছেই । ঈদের সময় ৫০ বা ২৫ বা ৩০ ভাগ নেমে গেলেও সেটা তো আবার সারা বছর পর্যায়ক্রমে উৎপাদন হচ্ছে। অন্যদিকে ডেইরির কথা বললে, বলতে হবে যে, প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম দুধ উৎপাদন হচ্ছে আমাদের। তার জন্য বাইরে থেকে আমাদের দুই হাজার কোটি টাকার গুড়ো দুধ আমদানি করতে হচ্ছে। এমনকি সরাসরি গরুও আমদানি হচ্ছে দেশে। যা চাহিদার তুলনায় আরও বাড়তে পারে। আসলে সরকারের পরিসংখ্যান অনুসারে দুধের চাহিদার অনুপাতে অর্ধেক উৎপাদন করা যাবে। কিন্ত আমরা প্রডাক্ট দুধ বাদেও উৎপাদন ১০ গুণ বাড়াতে পারি। যার চাহিদা দিনদিন বাড়তেই থাকবে।

আর মাংসের কথা যদি বলি, চাইলে আমরা উৎকৃষ্টমানের মাংসের উৎপাদন করতে পারি। তাতে করে মাংসের দামও অনেক কমিয়ে আনা যাবে। আমার মতে, ৩০০ টাকা কেজিতে তা বিক্রি করা সম্ভব। আর তা যদি করা সম্ভব হয় তবে চাহিদার সঙ্গে উৎপাদনও অনেক বেড়ে যাবে। ফলে সবাই গরুর মাংস খেতে পারবে। এই গরুর মাংস কিন্ত ছোট বাচ্চাদের জন্য বা বাড়ন্ত শিশুদের জন্য অনেক পুষ্টি সম্পন্ন। এটা ব্রেনের সঠিক গঠনের জন্যও কাজ করবে। এজন্য আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের উন্নতির জন্য তাদের গরুর মাংস খাওয়াতে হবে।

দুধ ও মাংসের বাইরে গরুর চামড়ার সম্ভাবনা কোথায় : আসলে গরুর চামড়া অনেক মূল্যবান একটি উপাদান। যদি আমাদের দেশে গরুর উৎপাদন বাড়ে, মাংসের চাহিদা বাড়ে বা মাংস রপ্তানি হয় তাহলে তো চামড়ার কথা আসবেই। আর এর জন্য চাহিদার তুলনায় বেশি চামড়া উৎপাদন করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারেও মূল্য পাওয়া যাবে। কারণ গ্লোবাল মার্কেটে এই চামড়ারর ভালো চাহিদা রয়েছে। তাহলে সে মার্কেটও আমরা ধরতে পারব।

মাংস রপ্তানি করা সম্ভব : ক্যাটেল মিটের চাহিদা বিশ^জুড়ে। সে অনুযায়ী ইতিমধ্যে দেশের দু'একটা প্রতিষ্ঠান ক্যাটেল মিট রপ্তানি করছে। সে অনুপাতে যদি সঠিকভাবে উৎপাদন করতে পারি তা হলে বিশ^বাজারে আমরা মাংস ব্যাপক হারে রপ্তানি করতে পারব। তাছাড়া আমরা যেহেতু মুসলিম কান্ট্রি সে হিসেবে আমাদের মিটের চাহিদা থাকবে। কারণ বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশে হালাল মিটের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। মিডলইস্ট ছাড়া ইন্দেনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রে আমরা এই মাংসের যোগান দিতে পারি।

জৈব সার হিসেবে গোবরের চাহিদা :প্রটেনশিয়াল মার্কেট হিসেবে অর্গানিক বা জৈব সারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে আমাদের। আর এর অন্যতম উপাদান হলো প্রাকৃতিক গোবর সার। আমাদের দেশে একই জমিতে দুই থেকে তিনটা ফসল হয়। আর বার বার উৎপাদন হবার কারণে মাটি কিন্ত তার উৎপাদন ক্ষমতা হারায়। অনেক সময় মাটি শক্ত হয়ে ভেতরে বাতাস প্রবেশ করতে পারে না। তখন মাটিকে ফাঁপা রাখার জন্য বাড়তি জৈব উপাদানের প্রয়োজন পড়ে। আর তখনই গোবরকে অর্গানিক সার হিসেবে ব্যাবহার করলে মাটির উর্বরতা বাড়বে। তখন সেখানে কিন্ত ফসল ভালো হতে বাধ্য। আমরা দেশে সবচেয়ে বড় অর্গানিক সার উৎপাদকারী একমাত্র কোম্পানি। টোটাল চাহিদার ৬০ ভাগ আমরা সাপ্লাই দিতে পারি। কিন্তু তা পারছিনা; কারণ এর কাঁচামাল হিসেবে গোবরসহ অন্যান্য কিছু আমরা পাই না। এক লক্ষ বিশ হাজার মেট্রিকটন চাহিদা রয়েছে মার্কেটে। যেখানে আমরা ১০-১২ হাজার মে: টন উৎপাদন করতে পারছি। এতো বড় একটা মার্কেট যেখানে ভালো ফসল উৎপাদনের জন্য এমন অর্গানিক সারের উৎপাদন করা অবশ্যই প্রয়োজন।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, গরু থেকে কিন্ত অনেক ধরনের উপাদান আপনি পাচ্ছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দিকে তাকালে বলতে পারি যে, তারা গোবরকে সার হিসেবে জমিতে দিয়ে ভালো ফসল উৎপাদন করতে পারছে। গরুর দুধ ও মাংস বিক্রি করে সে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে, অন্যরা দুধ ও মাংস খেয়ে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারছে। গরুর চামড়া অন্যতম অর্থকরী পণ্যের সংস্থান দিচ্ছে। তার মানে, আপনি যদি সঠিকভাবে গরু পালন করতে পারেন; তাহলে এটি একটি অমিত সম্ভাবনাময় একটি খাত হবে। তাই বলছি গো সম্পদকে কেন্দ্র করে সরকার আরো ভাবতে পারে। আরো বেশি উৎপাদন অর্থাৎ বৃহৎ শিল্প খাতের মাধ্যমে আমাদের জিডিপি আরো দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

কর্মসংস্থান ও গরুর খামার: একটি ছোট কিংবা মাঝারি ধরনের উন্নত জাতের গরু সমৃদ্ধ খামার, একজন যুবকের কর্মসংস্থানের ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে এজন্য খামার ব্যাবস্থাপনা ভালো হতে হবে। সাধারণত একটা লাভজনক স্থায়ী খামার করতে হলে ১০০ থেকে ২০০ গরু নিয়ে শুরু করাই ভালো। কারণ তখন আধুনিক সব টেকনোলজির ব্যবহার করতে পারবেন।

আসলে সেরকম একটা খামারে সনাতন পদ্ধতি খুব একটা কাজে দেবে না। মেকানিক্যাল ইন্টারভেনশন ছাড়া গরু পালন রিস্কি। আপনাকে আধুনিক বিশে^র সঙ্গে তাল দিয়ে চলতে হবে। আর তখনই আপনার খামার সাস্টেইনেবল হবে। যেমন,আপনি যখন সনাতন পদ্ধতিতে দুধ দোয়াতে যাবেন তখন একটার পর একটা গরু দোয়ানোর সময়, গরুর ওলানে ইনজুরি হবার সম্ভাবনা থাকে। আর তখন দুধ উৎপাদন অর্ধেক কমে যাবে। এ জন্য রোবোটিক সিস্টেমে দুধ দোয়ানোর ব্যবস্থা থাকলে আপনি পরিপূর্ণভাবে দুধ পাবেন, শ্রমিকের পরিমাণ কমে আসবে, নিরাপদ ও জীবানুমূক্ত দুধ পাবেন। তাছাড়া গরুকে আপনি সহজেই সুন্দরভাবে ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে পারবেন। খামারে যত মানুষের সংখ্যা কম হবে তত জীবানু সংক্রমণের সংখ্যাও কমে আসবে। এতে করে আপনার খামার থাকবে জীবানু ও রোগমুক্ত। আসলে ৫০ থেকে ১০০ বা ২০০ গরু নিয়ে আপনি আধুনিকভাবে একটা খামার স্থাপন করতে পারেন। এতে করে সারা দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। ফলে মানুষ দুধ পাবে, মাংস পাবে, সার পাবে। এই মডেলটি কিন্ত তখন ভালো একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারবে।

গরুর খামার করতে কেমন বিনিয়োগ প্রয়োজন : ৫০ থেকে ২০০ গরু নিয়ে একটা ফার্ম প্রতিষ্ঠা করার জন্য খুব বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়বে না। লাখ দশেক টাকা হলেই যে কেউ এমন ফার্ম স্টার্ট করতে পারবে। আমরা যে কাজটা করি সেটা হলো ,গরুর ঘর বানাতেই ২০ লাখ টাকা খরচ করে ফেলি। পিছন ফিরে তাকালে কি দেখবেন একসময় প্রাণীরা থাকত জঙ্গলে। এখন বাসাবাড়িতে রাখা হয়। তাও আবার দালানকোঠায়। এটা ঠিক না। যখন আপনি পশুকে ঘরের মধ্যে রাখবেন, তখন তো সেখানে পর্যাপ্ত আলো বাতাস আসবে না। তাহলে কী করা ? সে জন্য শুধু উপরে একটা কিছু দিয়ে কভার।

করলেই হবে। যাতে রোদ, বৃষ্টি, ঠান্ডা এসে সরাসরি গরুর উপর না পরে; এটুকুই যথেষ্ঠ। তাহলে চারপাশে বাতাস আসবে, বৃষ্টিতে গরু ভিজলে তেমন কোন ক্ষতি হবে না। তাহলে কী হবে, তাদের শরীর পরিষ্কার থাকবে, বাতাস পরিষ্কার থাকবে এবং গরুর বৃদ্ধি দ্রুত হবে। শুধু মশার একটা সমস্যা আছে, তবে তার সমাধানও আছে। আজকাল বাজারে নেট পাওয়া যায়, ঘরের চারপাশে নেট লাগিয়ে দিলে মশা আর লাগবে না, মারা যাবে। তাহলে সহজেই আপনি গরু লালন পালন করতে পারবেন। একজন শক্ত সমর্থ যুবক মাত্র ১০ লাখ টাকা খরচ করলেই এরকম একটা খামার স্থাপন করতে পারে। তাহলে তার ব্যবসাটাও ভালো হবে। যেখান থেকে প্রায় ৩০ ভাগ মুনাফা পাওয়া সম্ভব।

অন্যরকমভাবে একটা হিসাব দিই । একজন গরীব মানুষ একটা গরু পালন করলো। সে দুধ পাবে দেড়-দুই লিটার। সে দুই লিটারের দাম পাবে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। সে জায়গায় একজন শিক্ষিত যুবক যে কি না সবধরনের আধুনিক জ্ঞানে হাইব্রিডের গরু পালন করেছে। সে দুধ পেল ১৫ থেকে ৩০ লিটার পর্যন্ত। এখানে ১৫ লিটার দুধের মূল্য ৬০০ টাকা, প্রতিদিনের খাবার ও মেইনটেনেন্স বাবদ খরচ ৪৫০ টাকা। তাহলে থাকছে ১৫০ টাকা। তাহলে দাঁড়ালো, একজন টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে আর আরেকজন আয়েস করে ১৫০ টাকা গুনছে প্রতিটা গরু থেকে। এভাবে ৫০টি গরু থেকে আপনি দুধ পাবেন না। কোন গরু দুধ দেবে, কোনটা প্র্যাগনেন্ট হবে। এভাবে সার্বিকভাবে আপনি ৫০ভাগ গরুর কাছ থেকে চক্রাকারে দুধ পাবেন।

এ জন্য আপনার আধা একর জায়গার প্রয়োজন হবে। আপনাকে যে জায়গা কিনতে হবে তা কিন্ত না। চাইলে আপনার পাশের জমিটা দুই-তিন বছরের জন্য ভাড়া হিসেবেও নিতে পারেন। কারণ দেখেন, যেখানে ধান বা ফসল করে হয়তো বছরে আপনি ৮০০০ টাকাও পান না। সেখানে যদি এর বেশি টাকা পাওয়া তাহলে কেন ভাড়া দেবে না? তাছাড়া ভাড়া করা জায়গায় আজকাল অনেকেই অনেক কিছু করছে। সুতরাং এটা করাই যায়। এভাবে সম্ভব। শুধু ভালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রোগমুক্ত পরিবেশ, আর সুন্দর ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন।

নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কি রকম সহযোগিতা আছে : বাংলাদেশ সরকারের পর একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসিআই-ই সবচেয়ে বড় কোম্পানি, যারা সারা দেশে কৃষি উন্নয়নের জন্য ভেটেরিনারী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে অবিরত। প্রায় ৯০ জনের বেশি পশু চিকিৎসক আমাদের এখানে কাজ করেন। তারা প্রতিনিয়ত প্রান্তিক খামারিদের সঙ্গে কাজ করছেন। এটা কিন্ত কম কথা না। আমরা যেকোনো সময়, তাদের কাছাকাছি থেকে পুরোপুরি সুপারভাইজ করে, তাদের দিয়ে কাজ করাতে পারব। আমরা যদি এভাবে তিন চারটা ফার্মকে সুপারভাইজ করে এগিয়ে নিতে পারি, তাহলে আমাদের কাজটা আরো সহজ হয়ে গেল। এ কারণেই আমরা এটা করি। তাছাড়া আমাদের তো একটা মিশন আছে যে 'ক্রিয়েট ওয়েলফেয়ার অব ফার্মার'। সে উদ্দেশ্য সামনে রেখে আমরা কাজ করছি। যতটা না মানুষ আশা করছে তার চাইতেও বেশি আমরা করতে চাই।

ঋণের ব্যাপারে আমাদের ভাবনা : আসলে আমরা লোন নিয়ে কাজ করছি না। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দেশের অন্যান্য অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান এসব কাজে লোনের ব্যবস্থা করে থাকে। তাছাড়া সারা দেশের সবাই তো আর এ মাধ্যমে আসবে না। গ্রামের মোটামুটি শিক্ষিত মানুষ এগিয়ে আসছে এবং তারা তাদের অর্থের সংস্থান করেই আসছে। আমি মনে করি, কোন গ্রামে যদি কেউ খামার করার জন্য এগিয়ে আসে তাহলে সে তার আশেপাশের সবার কাছ থেকে, বাবা-মায়ের কাছ থেকে, অবশ্যই সাপোর্ট পাবে এবং এভাবেই সবাই আসছে ।

Dr. F H Ansarey
Managing Director & CEO
ACI Motors Limited
ACI Agrolink Limited
Premiaflex Plastics Limited
ACI Agribusinesses

Source: Ajker Bazzar 15 Sep 2017

দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠানকে অনেকদূর নিয়ে যেতে পারে

Date: 04 Sep 2017

মানুষের প্রতি, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা একটি প্রতিষ্ঠানকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে। শুধু মুনাফার আশায় ব্যবসা করলে তা বেশি দিন টেকে না।

যযে পণ্য মানুষ ভোগ করে তা যদি মানসম্পন্ন না হয় বা ক্ষতিকর কিছু থাকে তা কেউ গ্রহণ করবে না। সাময়িকভাবে হয়তো ব্যবসায়িক সফলতা থাকতে পারে। এই দায়বদ্ধতা শুধু পণ্যের মান নির্ধারণ নয় মানুষের ক্রয় ক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হয়। দেশের অন্যতম বিপণন প্রতিষ্ঠান এসিআই লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সমাজের আর্থিক সঙ্গতি চিন্তা রেখে পণ্য বাজারজাত করতে হয়। এসিআই সেই দায়বদ্ধতা থেকে পণ্য বিপণন করে। বাংলাদেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে দেশ একটি সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সৈয়দ আলমগীর ১৯৯৮ সালে এসিআই কনজ্যুমার ব্র্যান্ডসের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত ১৯ বছরে তিনি এসিআই কনজুমার ব্র্যান্ডসকে একটি মহীরুহে পরিণত করেছেন। কয়েক হাজার কর্মী নিয়োগ করেছেন। অনেক পণ্য বাংলাদেশে বহু ক্ষেত্রেই ১নং স্থান দখল করেছে। বাংলাদেশের ব্যবসা পরিবেশ, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, প্রবৃদ্ধিসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন এই স্বনামখ্যাত বিপণন বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, একটি সমাজের মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটানোর পরেই নতুন কিছু পেতে চায়। ভোগ্যপণ্য থেকে শুরু করে বিলাসদ্রব্য কিনতে চায়। বাংলাদেশে মৌলিক চাহিদা মেটাতে দীর্ঘ সময় লেগেছে মানুষের। এখনো দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে ঠিকমতো খাদ্য জোগাতে অনেকে হিমশিম খায়। এসব অঞ্চলে বিলাসদ্রব্য কেউ কিনবে না।

তবে বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে। যার প্রভাব আমরা সবচেয়ে বেশি দেখতে পাচ্ছি। প্রতিদিন এসব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। সৈয়দ আলমগীর বলেন, খুব ধীরে হলেও দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ছে। বর্তমানে সরকারের নেওয়া সাতটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ আর্থিক সক্ষমতার শীর্ষ দেশ হবে। দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশ হবে অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশ। বাংলাদেশের জনশক্তি দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো দেশের তুলনায় বেশি মেধাবী। শ্রমিকদের কাজের মান, দক্ষতায় সারা পৃথিবীতে সমাদৃত এদেশের জনশক্তি। সঠিক ট্রেনিং পেলে তারা যে কোনো কাজ দক্ষতার সঙ্গে করতে পারে। এই জনশক্তির মেধা ও শ্রমের কারণেই বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সক্ষমতায় সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত হবে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা যেভাবে বেড়েছে তাতে বোঝা যায় দেশ কতখানি এগিয়েছে। এসিআই লিমিটেডের এই নির্বাহী পরিচালক বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা চলছে। বন্যার কারণে সেসব এলাকার লোক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্বাভাবিকভাবে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কিছুটা কমেছে। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কিন্তু এটা থেকে বের হতে হলে সঠিকভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। দুর্নীতির কারণে যদি এসব প্রান্তিক মানুষ ঘুরে দাঁড়াতে না পারে তার প্রভাব দীর্ঘদিন থাকবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান ব্যবসা পরিবেশ অত্যন্ত ভালো। বিদেশি বিনিয়োগ আসছে। সরকার ভালো পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমি মনে করি যে কোনো সময়ের তুলনায় বাংলাদেশ এখন অনেক উন্নতি করেছে। সৈয়দ আলমগীর বলেন, এসিআই লিমিটেড বাংলাদেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ। আমাদের পরিকল্পনা মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা। একাধিক দেশের বৃহৎ কোম্পানি আমাদের সঙ্গে যৌথভাবে বাণিজ্য করছে। এসিআইয়ের গৌরব কয়েক হাজার কর্মী কাজ করছে আমাদের সঙ্গে। যাদের কখনো কোনো অভিযোগ নেই। এমনকি এ প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার হারও খুব কম। মানুষের একটি আস্থাশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকে থাকবে এসিআই—এটাই আমাদের বড় পরিকল্পনা।

সৈয়দ আলমগীর
নির্বাহী পরিচালক, এসিআই লিমিটেড

Source: Bangladesh Pratidin 29 Aug 2017

টপ মাইন্ড শেয়ারিং ব্র্যান্ড হতে চাই

Date: 17 Aug 2017

২০০৭ সালে যাত্রা শুরু করা এসিআই মোটরস ২০১৬ বাংলাদেশে ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের পরিবেশক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে। ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বিশ্বমানের প্রযুক্তি ও নজরকাড়া আউটলুকের কারণে পথচলার শুরুতেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা ব্র্যান্ড ইয়ামাহার ১২৫ সিসি থেকে ১৫০ সিসি পর্যন্ত বিভিন্ন মডেল ইতিমধ্যেই বাইকারদের মন জয় করেছে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য ২৪ মাসের কিস্তিতে পছন্দের মডেল কেনার সুযোগ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। যন্ত্রাংশের দাম কমানোর পাশাপাশি সেবাধর্মী মানসিকতা নিয়ে বিক্রয়-পরবর্তী সার্ভিসিং নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে এসিআই মোটরস। কালের কণ্ঠ'র সিনিয়র রিপোর্টার আবুল কাশেমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ইয়ামাহা মোটরসাইকেল ও বাইকারদের স্বার্থরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন এসিআই মোটরসের চিফ বিজনেস অফিসার সুব্রত রঞ্জন সাহা

কালের কণ্ঠ : এসিআই মোটরসের মোটরসাইকেল ব্যবসায় আসার উদ্দেশ্য কী?

সুব্রত রঞ্জন সাহা : এসিআই মোটরস বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে ভালো মানের মোটরসাইকেল তুলে দেওয়া ও দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে। বাংলাদেশেও মোটরসাইকেলের সম্ভাবনা ব্যাপক। দেশের মোটরসাইকেলের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রতিবছর প্রায় আড়াই লাখ মোটরসাইকেল বিক্রি হচ্ছে। তবে এটিও যথেষ্ট নয়।

দেশের জনসংখ্যা অনুযায়ী আরো বেশি মোটরসাইকেলের চাহিদা রয়েছে দেশে। ভারত, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মোটরসাইকেলের বাজারের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের বাজার আরো চার গুণ হওয়া উচিত ছিল। প্রতি হাজার জনসংখ্যা হিসাবে বাংলাদেশে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী অন্য দেশের তুলনায় অনেক কম। 'রেভস ইউর হার্ট' স্লোগান নিয়ে তরুণ ও যুবকদের গতি, আকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তার চাহিদা পূরণ করে তাদের পাশে থাকতেই ইয়ামাহা মোটরসাইকেল নিয়ে ব্যবসায় সম্পৃক্ত হয়েছে এসিআই মোটরস।

কালের কণ্ঠ : প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ইয়ামাহার লক্ষ্য কী?

সুব্রত রঞ্জন সাহা : ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বাংলাদেশের সেরা মোটরসাইকেল। বাইকাররা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল ব্যবহার করলেও তাদের ভাবনায়ও ইয়ামাহা মোটরসাইকেলই সেরা। আমাদের চাওয়াও গ্রাহকের সেরা পছন্দের ব্র্যান্ড হওয়া। তবে মার্কেটে আমাদের অংশীদারি বাড়াতে চাই। গ্রাহকের 'মাইন্ড শেয়ারিং' বাড়াতে চাই। আমরা 'টপ সেলিং ব্র্যান্ড নয়, টপ মাইন্ড শেয়ারিং ব্র্যান্ড' হতে চাই।

কালের কণ্ঠ : ইয়ামাহার জনপ্রিয় মডেল কোনটি?

সুব্রত রঞ্জন সাহা : ইয়ামাহা বিশ্বের মোটরসাইকেল জগতে সেরা দ্বিতীয় ব্র্যান্ড। বাংলাদেশের সবচেয়ে সুনামধারী মোটরসাইকেল হলো ইয়ামাহা। এর বাহ্যিক গঠন, সার্বিক সক্ষমতা, সাসপেনশন ও কার্যকারিতা অন্য ব্র্যান্ডগুলোর তুলনায় অনেক কার্যকর ও চিত্তাকর্ষক। ১২৫ সিসি থেকে ১৫০ সিসি পর্যন্ত ইয়ামাহার সাতটি মডেল বর্তমানে বিপণন করছে এসিআই মোটরস। এখন যেসব মডেল বিক্রি হচ্ছে, তার সব কটিই জনপ্রিয়তায় শীর্ষে রয়েছে।

কালের কণ্ঠ : মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে আপনাদের কোনো ভূমিকা আছে কী?

সুব্রত রঞ্জন সাহা : ইয়ামাহা মোটরসাইকেল চালনায় আরাম ও ব্যালান্স অনেক ভালো। তবে বাইকারদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলো ফ্লাইওভার। ফ্লাইওভারের দুটি অংশের সংযোগস্থলে স্টিলের পাতের মাঝে যে ফাঁক থাকে, তাতে চাকা আটকে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। খুব সহজেই ফ্লাইওভারগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া যায়।

ইয়ামাহা মোটরসাইকেল অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। ফলে এটির ব্যবহারকারীদের খুবই কম দুর্ঘটনায় পড়তে হয়। ইয়ামাহা বিশ্বজুড়ে ব্রেকিং সিস্টেম ও ইকো ব্যালান্সের জন্য বিখ্যাত। তবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা দরকার। আমরা নিরাপদ ও আনন্দদায়ক ভ্রমণ নিয়ে প্রচারাভিযান চালাচ্ছি। ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের ক্রেতাদের আমরা বিনা মূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে হেলমেট সরবরাহ করছি। ১৩০০ বাইকার নিয়ে 'ইউজ হেলমেট, রাইড সেফ' শিরোনামে শোভাযাত্রা করেছি। গ্রাহকদের সচেতনতা বাড়াতে আমাদের আরো অনেক কিছু করার পরিকল্পনা আছে।

কালের কণ্ঠ : ইয়ামাহার মূল ক্রেতা তরুণরা, কারণ কী?

সুব্রত রঞ্জন সাহা : ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বিক্রি করার সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে বাইকার সার্কেল শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি। আগে তরুণ ও যুবকরা ক্লাব, সুস্থ ধারার রাজনীতি, পাঠচর্চাসহ নানা ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। এখন এসব কর্মকাণ্ড নেই। তারা ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। এতে তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। তবে আশার কথা হলো, এখন দেশে ছোট ছোট বাইকার গ্রুপ হচ্ছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করে। এসিআই মোটরস এ ক্ষেত্রে সহায়তা করছে। বাইক চালানোর সঙ্গে মানুষের মন ও স্বাস্থ্যের সুস্থতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। জাপানের নাগরিকরা একাকিত্ব অনুভব থেকে আত্মহত্যা করছে। এটি দূর করতে দেশটির সরকার তার নাগরিকদের বাইক চালাতে উৎসাহ দিচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বাইক চালায় তারা দীর্ঘদিন সুন্দরভাবে বাঁচে। বর্তমানে বাইকারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আয়োজনের মতো অবকাঠামো দেশে নেই। দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনাও আছে আমাদের। বাইকারদের জন্য আমরা মোটো জিপি-এর আদলে ট্র্যাক করতে চাই।

কালের কণ্ঠ : মোটরসাইকেল সার্ভিসিংয়ে অনেক খরচ। সার্ভিসিং ব্যয় কমানোর কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

সুব্রত রঞ্জন সাহা : এসিআই মোটরস ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের সব ধরনের যন্ত্রাংশ বিক্রি করে। এ ক্ষেত্রে মুনাফার বদলে সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দিই আমরা। গ্রাহক সন্তুষ্টি আমাদের অগ্রাধিকার। একমাত্র আমরাই যেখান থেকে মোটরসাইকেল বিক্রি করি, সেখানেই সার্ভিসিং করি। বিক্রয়োত্তর তিন বছর বা ১২ হাজার কিলোমিটারে চারটা ফ্রি সার্ভিসিং সুবিধা দিই। ইয়ামাহা ডায়াগনস্টিক টুলস গড়ে তুলছি, যেখানে কম্পিউটারের মাধ্যমে মোটরসাইকেলের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করা হয়। এ ধরনের সুবিধা বাংলাদেশের আর কোনো প্রতিষ্ঠানের নেই। আমরা ঢাকার তেজগাঁও ও গাজীপুরের টঙ্গীতে সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করছি, যা আগামী তিন মাসের মধ্যেই চালু হবে। আমরা গ্রাহকদের জন্য সার্ভিস কার্ডও চালু করব, যেখানে মূল্যছাড় থাকবে। যন্ত্রাংশ কিনলে সার্ভিস ফি নেওয়া হবে না—এ ধরনের ব্যবস্থাও থাকবে। মোটরসাইকেল সার্ভিসিং ফি কমাতে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। যন্ত্রাংশের দাম ইতিমধ্যে কমিয়েছি। সার্ভিসিং থেকে আমরা কোনো মুনাফা করতে চাই না, গ্রাহকের সন্তুষ্টি বাড়ানোর অংশ হিসেবে বিবেচনা করছি।

কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের দাম অনেক বেশি। এটা কিভাবে নাগালে আনা সম্ভব?

সুব্রত রঞ্জন সাহা : বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের উচ্চদরের কারণ উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করা। ভারত নিজেরা মোটরসাইকেল উৎপাদন করে। তার পরও দেশটিতে মোটরসাইকেল আমদানিতে শুল্ক ও সম্পূরক শুল্কহার ৯০ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশে ১৫০ শতাংশ। মোটরসাইকেল আমদানিতে শুল্ক ১০০ শতাংশে নামিয়ে আনা হলে মোটরসাইকেলের দাম সাধারণের নাগালের মধ্যে নেমে আসবে।

Source: Kaler Kanthoa 13 Aug 2017

সময় এসেছে মাটির নিচে পানি সংরক্ষণের

Date: 17 Aug 2017

স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই সেচ কার্যক্রমে সরকার যথেষ্ট সহায়তা দিচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়ন ও নীতি সহায়তার পাশাপাশি কৃষককে সরাসরি সহায়তা করা হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সেচ নিয়ে কাজ করছে। উত্তরাঞ্চলের বরেন্দ্র অঞ্চলে অবকাঠামো সরকার তৈরি করে দিয়েছে। এর পর পানি ব্যবস্থাপনা সোসাইটির ওপর ছেড়ে দিয়েছে, এটা খুব ভালো ব্যবস্থা। এটার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ভালো হবে। এ পদ্ধতিটাকে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বলা যেতে পারে। পুকুর করা, পানি আটকে রাখা, নদীতে বাঁধ দেয়ার কাজ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিতে পারে বা উপজেলা-ইউনিয়ন পরিষদকে দায়িত্ব দিতে পারে। যেভাবে অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে, তা আরো ব্যাপক আকারে করে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে পারে। তাহলে আমার মনে হয়, সেচের ক্ষেত্রে আর কোনো সাবসিডি লাগবে না।

তবে সেচ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ কিংবা উন্নত বিশ্বের প্রযুক্তি আমাদের দেশে খুব একটা প্রচলন ঘটেনি। যেগুলো আছে, সেগুলো ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতি, যেমন— ডিপ বা শ্যালো টিউবওয়েল। সেচ প্রযুক্তিতে আমরা পিছিয়ে আছি, যেমন— ড্রিপ ইরিগেশন, ওয়াটার পাঞ্চ করে ভূগর্ভে ঠেলে দেয়া, তার কোনো কিছুই আমাদের দেশে নেই। তবে সারফেস থেকে পানি তুলে পাইপের মাধ্যমে দেয়ার যে প্রচলন শুরু হয়েছে, তা ভালো। এ ব্যবস্থা তেমন আধুনিক না হলেও খারাপ না। প্রচলিত পদ্ধতি থেকে বের হয়ে এসে ভূ-উপরিস্থ পানি মাটির নিচে সংরক্ষণের সময় এসে গেছে। আর এ ধরনের প্রযুক্তি সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চালু হলেও বাংলাদেশে তা হয়নি। প্রকল্পভাবে কিছু এলাকায় দেখানোর চেষ্টা চলছে, সেটি সম্প্রসারণ করতে হবে দ্রুতবেগে।

মরুভূমির মতো পানি নেই, তা কিন্তু নয়। পানি আছে, তবে তা ধরে রাখতে পারি না। তাই পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। রাতারাতি ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হলে কৃষক এ পানি দিয়ে সেচ দিতে পারবে না। এটা হলে তা সবার জন্যই খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে। এখন আমাদের দেখা দরকার কী কীভাবে পানি ধরা সম্ভব। কেননা পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি বিভিন্ন নদ-নদী হয়ে আসে, আবার প্রচুর বৃষ্টিও হয়। এর বড় অংশ সমুদ্রে চলে যায়, যা লোনা হয়ে যাওয়ায় ব্যবহার করা যায় না।

নদী-নালা হয়ে যে পানি আসে, তা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ধরে রাখা যায়। তাহলে সুবিধা হবে— ওই অঞ্চলে যতটুকু পানি মানুষের ব্যবহারের দরকার হয়, সেটা সেখান থেকে পাওয়া যাবে। উপরিভাগে পানি আটকানো থাকলে ভূগর্ভের পানির স্তর উপরে উঠে আসবে। আবার ধরে রাখা পানি ব্যবহার করে চাষবাস করা যাবে। ফসল চাষের ফলে পানি কমে গেছে, তা কিন্তু নয়। পানি কমে গেছে, কারণ পানি থাকছে না, চলে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে আমাদের সুযোগ আছে পানি ধরে রাখার। সরকারও এটা করতে পারে। আগেও করেছে। আমরা দেখেছি মহানন্দা থেকে পানি তুলে পাইপ দিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। এটা ভালো উদ্যোগ। আগের প্রকল্পগুলোয় ব্যবস্থাপনায় সমস্যা ছিল, পানিবণ্টনেও সমস্যা ছিল। বড় বড় খালের মাধ্যমে মাটির উপরিভাগের পানি ছেড়ে দেয়া হতো। এখন যেটা করা হচ্ছে— পানি তুলে খালে দেয়া হচ্ছে না, পাইপ দিয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে সরবরাহ করা হচ্ছে, তা বিনামূল্যে নয়। এখন মানুষ কিন্তু পানির মূল্যটা বোঝে। তবে যে দাম নেয়া হচ্ছে, তা নিতান্তই কম। কৃষকের জন্য খুবই লাভজনক। পয়সা দিয়েও কিন্তু ভালো পানি পাচ্ছে।

তবে নিচ থেকে পানি তোলা বন্ধ করার মতো কিছু করতে হবে। যেখানে পানি তোলা দরকার, সেখানে তুলবে। আর যেখানে পানি দেয়া দরকার, সেখানে খাল থেকে পানি দেবে। সরকারের অধীনে খাস হিসেবে অনেক পুকুর আছ। এগুলোকে মাছ চাষের জন্য লিজ দেয়ার দরকার নেই। মত্স্য খাতে উৎপাদনশীলতা উন্নত হওয়ার কারণে যে হারে মাছ চাষ হচ্ছে, তা থেকে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যাবে। তাহলে আমাদের মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ও সেচের জন্য পানি লাগবে। তাই আমাদের সরকারি যেসব জলাশয় আছে, সেগুলো সংরক্ষণ করা উচিত। দরকার হলে বিভিন্ন জলাধার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দেয়া হবে, তবে শর্ত থাকবে যে ইকোলজিক্যালি অ্যাকসেপ্টেবল এমনভাবে বাঁধ দেয়া হবে। এতে অপচয় কমবে, ব্যবস্থাপনাও ভালো হবে। সবমিলে ভালো পানি ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে যাবে। ভারতে কিন্তু এটা করা হয়েছে। জলগাঁওয়ে একটি নদী আছে, যেটা বছরের একটা সময়ে শুকিয়ে যেত, আবার বর্ষার সময়ে পানিতে ভরে যেত। একটা সময় জেইন ইরিগেশনকে ওই নদীতে বাঁধ করতে দেয়া হলো।

তারা এসব প্রকল্পের জন্য ওই নদী থেকে পানি একটা নির্দিষ্ট মূল্য দিয়ে কিনে নেয়। আবার কৃষকও বিনামূল্যে পানি পায়। এটা এখন মডেল। একই মডেলে আমাদের দেশেও করা যেতে পারে। যেখানে বাঁধ দেয়া প্রয়োজন, সেখানকার স্থানীয় কোনো প্রতিষ্ঠানকে বাঁধ করতে দিতে হবে, যেন কোনো বিবাদ দেখা না দেয়। অথবা ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা পরিষদকে বলা হবে, তোমরা ইকোলজিক্যালি বাঁধ দিয়ে পানি আটকাতে পারবে। এখান থেকে যে পানি দেয়া হবে, তার জন্য মূল্য নেয়া হবে। এ থেকে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা হবে। যেখানে খাল-বিলের সংখ্যা কম, সেখানে আধার তৈরি করে বৃষ্টির পানি মাটির নিচে পাঠানো যায়। এতে আধারের (পুকুরের) পানি দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ করা যাবে, পানি প্রবেশের কারণে পানির স্তর উপরে উঠে আসবে। যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ নেই, সেখানে পাম্পের সঙ্গে সোলার প্যানেলের সংযোগ দিতে হবে। এতে খরচও অনেক কমে যাবে। এটা হলো যেসব এলাকায় পানি থাকে না, বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলের জন্য। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সমস্যা হলো লোনা পানি। এসব এলাকায় বৃষ্টির পানি ধরে রাখা ছাড়া তো উপায় নেই। এক্ষেত্রে পুকুরের মতো বড় বড় আধার বানিয়ে পানি আটকাতে হবে। এ পানি মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করবে আবার ড্রিপ ইরিগেশনের মাধ্যমে ফসল চাষ করা যাবে।

আরেকটা সমস্যা হলো যখন বেশি পানি থাকে। অনেক বিলে পানি জমে থাকে। এ পানিকেও অর্থনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। আমরা সাধারণত পানি থাকলে ধান বা ফসল উৎপাদন করতে চাই। এ জমিতে ধানের বদলে মাছ চাষ করলে আরো বেশি লাভ হবে। উত্তরবঙ্গে উঁচু জমি কেটে পুকুর বানিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এটার তো দরকার নেই। মাছ-ধান দুটোই দরকার। সিলেটে যেমন পানি সব ভাসিয়ে নিল। এতে ফসলও গেল, মাছও গেল। ধরুন বাড়ির আশপাশে যে ছোট ছোট জলাশয় আছে, যেমন— পুকুর, তাতে আমরা পোনা ছেড়ে দিলাম। পোনাটা বড় হলে এক-দুই মাস পর সেখান থেকে তুলে খাঁচার মধ্যে পুরে বিলে নামিয়ে দিলাম। যেহেতু মাছ খাঁচায় আটকানো, এতে বিলের পানি বাড়লেও কিছু যায় আসে না। যেহেতু বাজারে ফিশ ফিড পাওয়া যায়, তাই মাছের খাবার নিয়েও সমস্যা হবে না। এতে মাছ প্রচুর অক্সিজেন পাবে, পানি পাবে, খাবার পাবে। দেখা যাবে মাছের স্বাদও বেড়ে গেছে। তখন আর কেউ বাজারে গিয়ে নদীর মাছ আলাদা করে খুঁজবে না। এভাবে জলাভূমিগুলোকে ইকোনমিক মাল্টিপ্লাইয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। তবে এটা শুধু বিলে না, নদীর পাড়ে-মোহনায় যেখানে বড় জলাভূমি আছে, সেখানেও করা যাবে।

বরেন্দ্রতে আগে থেকে ফসল হতো, এখনো সেটা আছে। এর পর প্রচুর পরিমাণ সবজি ও ফল পাওয়া গেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, এ এলাকায় প্রচুর শিল্প-কারখানা হচ্ছে। এ ট্রেন্ড কিন্তু থামানো যাবে না। গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের (জিকে প্রজেক্ট) মতো উদ্যোগে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে আরো বেশি সুফল পাওয়া যাবে। ঢালাওভাবে পানি না দিয়ে সমিতি গঠন করে পানিবণ্টন করা যেতে পারে। এ সমিতি পানিবণ্টন, এর বিপরীতে অর্থ আদায় থেকে শুরু করে বাকি সব কাজ করবে। এতে পানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

ইদানীংকালে দেখা যাচ্ছে, পানির অপচয় রোধ করার জন্য ক্ষেতে পানি পরিমাপ করার উপায় বেরিয়েছে। পানি দেয়ার সময়ও নির্ধারণ করা যাচ্ছে। এসব পদ্ধতিকে আরো সম্প্রসারণ করে কাজে লাগানো যেতে পারে। যেমন— ধানের জীবনকাল কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। ট্রান্সপ্লান্টেশন বা ধান লাগানো, গ্রোয়িং বা বৃদ্ধিকাল ইত্যাদি। ধান যখন লাগানো হয়, তখন পানি আটকে রাখতে হয়, যেন ঘাস জন্মাতে না পারে। এর পর পানি ছেড়ে দিতে হয়, ২০ থেকে ২৫ দিন পর্যন্ত। তার মানে এ সময় পানি লাগছে না। এ সময় কেউ না বুঝে সেচ দিলে ফসলও হবে না আবার পানিও নষ্ট হবে। শীষ চলে এলে পানি আটকাতে হবে এবং মোটামুটি থাকলে হয়। এ ব্যাপারে কৃষককে সচেতন করা গেলে পানির অপচয় অনেক কমানো যাবে। সেচের জন্য যেসব ক্যানেল বা নালা রয়েছে, সেগুলোকে পাইপ দিয়ে মাটির নিচে স্থাপন করা যায়। এতে পানি বাষ্পীভূত হবে না, আটকাবে না, গড়িয়ে যাবে না, যার ফলে ফ্লাড ইরিগেশনের প্রয়োজন হবে না। এতে পানির ব্যবহার অর্ধেক পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

পানির সঠিক ব্যবহারে ক্রপ প্যাটার্ন পরিবর্তন করা যেতে পারে। দেশের অনেক অঞ্চলে এরই মধ্যে এটা শুরু হয়ে গেছে। যেমন— যেসব এলাকায় পানির খুব সমস্যা, সেসব এলাকায় ফসলের বদলে দেশী-বিদেশী ফলের বাগান হচ্ছে। বাজারে এসব ফলের চাহিদাও কিন্তু আছে। যেমন ড্রাগন ফ্রুট, আমড়া, থাই পেয়ারা এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে পানি অনেক কম লাগে। আবার চাষপদ্ধতিও পরিবর্তন করা যায়। যেমন— ইরিগেটেড রাইসের বদলে ব্রডকাস্টেড রাইস (ডিরেক্ট সিডিং) করা দরকার। ভিয়েতনামে ব্রডকাস্টেড পদ্ধতিতে চাষের মাধ্যমে ৮৫ দিনে দেড় ফুট উচ্চতার গাছ থেকে ছয় টন ফলন পাওয়া যায়, আর আমাদের দেশে প্রচলিত পদ্ধতিতে আবাদকৃত দুই ফুটের ধান গাছ ১৫০ দিনে গড়ে চার টন ফলন দেয়। তার পর যে বিষয়ে নজর দেয়া উচিত, সেটা হলো ভ্যারাইটি। যেমন ব্রডকাস্টেড রাইস করতে গেলে গাছের শিকড় লম্বা হতে হবে, নয়তো পানি পাবে না। তাই এমন জাত লাগবে, যার শিকড় লম্বা হয়। এতে আমরা কম পানিতে অনেক বেশি ফলন পাব। এ পদ্ধতিতে ধান ছাড়াও গম, ভুট্টা, তেলবীজ, সবজি চাষ করা যেতে পারে।

ক্রপ জোনিং করা যেতে পারে। এটা এখন খুব দরকার। এর মানে এই না যে, ওই এলাকায় অন্য ফসল চাষ করা যাবে না। যাবে, তবে একটা ফসল প্রায়োরিটি পাবে, যেটাকে ক্রমাগতভাবে প্রমোট করা হবে। যারা প্রমোট করবে, তাদের ট্রেনিং দেয়া হবে। কৃষককে ফসলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব, বিপণন, সংরক্ষণ, ভ্যারাইটির ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এভাবে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পানি অপচয় রোধ করা যাবে।

Dr. F H Ansarey
Managing Director & CEO
ACI Motors Limited
ACI Agrolink Limited
Premiaflex Plastics Limited
ACI Agribusinesses

Source: Bonik Barta 15 Aug 2017

কৃষকের কাছে প্রযুক্তি পৌঁছে দেয়াই এই সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ

Date: 17 Aug 2017

image

image

Dr. F H Ansarey
Managing Director & CEO
ACI Motors Limited
ACI Agrolink Limited
Premiaflex Plastics Limited
ACI Agribusinesses
Dr. F H Ansarey
Managing Director & CEO
ACI Motors Limited
ACI Agrolink Limited
Premiaflex Plastics Limited
ACI Agribusinesses

Source: Anondo Alo 31 Jul 2017

কৃষকের জন্য মোটরসাইকেল এখন দরকারি, বিলাসিতা নয়

Date: 26 Jul 2017

'আমাদের মিশন কৃষকের সম্পদ বৃদ্ধি করা। কৃষকের সম্পদ বৃদ্ধির সঙ্গে সামগ্রিক উন্নতি হবে। তার স্বাস্থ্য সুরক্ষা করতে হবে। বাড়িঘর করবে। ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা করাবে। দেশ বিদেশে ঘুরবে। এতে তো গতি বাড়াতে হবে। আগে গরুগাড়িতে চড়াতাম। তারপর পাওয়ার টিলারে চড়ালাম। এরপর ট্রাক্টর। ট্রাক্টরের গতি পাওয়ার টিলরের চেয়ে বেশি। এভাবে গতি বাড়ছে। এখন আমরা কৃষককে মোটরসাইকেলে চড়াতে চাই। মানুষের গন্তব্য এখন অনেক উঁচুতে। জাপান যেভাবে এগিয়েছে; চায়না এগিয়েছে। আমার দেশের কৃষকও সেভাবে এগোবে'।– এসিআই এগ্রি বিজনেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সি ই ও ড.এফ.এইচ আনসারি বাংলাদেশের কৃষকদের এভাবেই দেখতে চাইছেন। এটি আসলে কিভাবে সম্ভব সে বিষয়ে ও কৃষির আরও অনেক বিষয় নিয়ে তার ভাবনা শেয়ার করেছেন আজকের বাজার ও আজকের বাজার টেলিভিশন এবি টেলিভিশনের সঙ্গে। তার সঙ্গে কথপোকথনের উল্লেখযোগ্য অংশ তারই ভাষায় প্রকাশ করা হলো।

কৃষি যন্ত্রপাতির ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারে সরকারকে স্বাগত জানাই। অন্য সব ক্ষেত্রের সঙ্গে করলেও বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কার্যকর করায় আমরা খুশি। কৃষকের ইনকাম বাড়াতে হলে কম খরচে ফসল উৎপাদন ব্যবস্থা করতে হবে। আর কম খরচে উৎপাদনের জন্য স্বল্প খরচে কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার জরুরি। কৃষি যন্ত্রপাতির ওপর থেকে ভ্যাট তুলে নেওয়ায় কৃষিতে যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়বে। ফলে উৎপাদনশীলতাও বাড়বে। এতে সরকারের যে ভিশন রয়েছে তাও পূরণ হবে।

এগ্রি বিজনেসের মানুষ হয়ে মোটর ব্যবসা সামলাবেন কীভাবে

এসিআই মেশিনারিজের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, আমরা মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত যুক্তিযুক্তভাবে টেকনোলোজি ব্যবহার করছি। এটা দিয়েই জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করার চেষ্টা করছি। আর এগ্রি বিজনেসও এসিআই গ্রুপের একটি অংশ। সেখানেও কৃষকের সম্পদ বৃদ্ধিতে কাজ করা হয়। আর কৃষকের সম্পদ বাড়ানোর জন্য তো টেকনোলজির ব্যবহার লাগবে। এসিআই মোটর লিমিটেড এই আয়োজনেরই একটি অংশ । এখন মোটরসাইকেলটাও সঙ্গে যুক্ত হলো।

আমাদের মিশন কৃষকের সম্পদ বৃদ্ধি করা। কৃষকের সম্পদ বৃদ্ধির সঙ্গে সামগ্রিক উন্নতি হবে। তার স্বাস্থ্য সুরক্ষা করতে হবে। বাড়িঘর করবে। ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা করাবে। দেশ বিদেশে ঘুরবে। এতে তো গতি বাড়াতে হবে। আগে গরুগাড়িতে চড়াতাম। তারপর পাওয়ার টিলার চড়ালাম। এরপর ট্রাক্টর। ট্রাক্টরের গতি পাওয়ার টিলরের চেয়ে বেশি। এভাবে গতি বাড়ছে। এখন আমরা মোটরসাইকেলে চড়াতে চাই। মানুষের গন্তব্য এখন অনেক উঁচুতে। জাপান যেভাবে এগিয়েছে; চায়না এগিয়েছে। আমার দেশের কৃষকও সেভাবে এগোবে। এতে সুবিধা হবে এই যে দেশের অর্ধেক মানুষ যদি এভাবে গতি পায়। তখন এদেশ কিন্তু সামগ্রিকভাবে সমৃদ্ধিশালী দেশ হয়ে যাবে। এই গতি আনতেই আমরা আমাদের পণ্যতালিকায় মোটরসাইকেল যুক্ত করেছি। এখন প্রশ্ন হতে পারে এগ্রিবিজনেসে মোটর কেন? এক্ষেত্রে বলব- আমরা যে মোটরের ব্যবসা করি সেই ব্যবসায় সাকসেস স্টোরি আছে। আমরা কৃষককে যখন একটা যন্ত্র দিই তখন পর্যাপ্ত শিক্ষাটাও দিয়ে দিই। বুঝিয়ে দিই কীভাবে ব্যবহার করতে হবে। যখন সার্ভিস সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। তখন তাদের মধ্যে আগ্রহ জন্মে। ব্যবহার করতে শুরু করে। এভাবে তারা লাভবান হয়। এখন যদি যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে পড়ে থাকে তাহলে তো লস। কৃষি যন্ত্রের ক্ষেত্রে বছরে ২ থেকে আড়াই মাসের বেশি চাষবাস করার যন্ত্র ব্যবহার করা যায় না। বাকী সময় হয় পড়ে থাকে না হয় অন্য কাজে ব্যবহার করতে হয়। আর এখানে যদি একদিন বা দুই দিন যন্ত্রটা পড়ে থাকে তাহলে কৃষকের কী পরিমাণ ক্ষতি হবে? এজন্য আমরা বলি আমাদের যন্ত্র কিনলে যে কোনো সমস্যা হওয়ার ৬ ঘণ্টার মধ্যে তা ঠিক করে দেব। তহালে যন্ত্রটি একদিনও পড়ে থাকলো না। ওইদিনই সে কাজে যেতে পারলো।

আমাদের দেশে জাপানি ইয়ামাহা অন্য একটি কোম্পানির সঙ্গে ৪০ বছর ধরে মোটরসাইকেল বিজনেস করছে। মটরসাইকেলের মার্কেট সেল ২% বা ৩% এর বেশি হয় না। অর্থাৎ জনগণ প্রপার সার্ভিস পাচ্ছে না। অথচ এই সার্ভিসের দরকার আছে। কাস্টমার দেখে, কারা এই সার্ভিস ভালো দেয়, কমিটমেন্ট রক্ষা করে। অনেক অখ্যাত কোম্পানি বাজারে আছে। মানুষ তাতে আস্থা পায় না। আর এসিআইয়ের একটা সুনাম আগে থেকেই রয়েছে। আমাদের পাওয়ারটিলার ভালো সার্ভিস দিচ্ছে। তাই ইয়ামাহা বুঝে নিয়েছে এদের দিলে এরা মোটরসাইকেল সার্ভিসটাও ভালো দিতে পারবে। মোটরসাইকেলের ব্যবসা তো মূলত গ্রামে। গ্রামের রাস্তা খারাপ। শহরে আসতে হলে মোটরসাইকেলই ভালো মাধ্যম। এখন তারা বেশি বেশি ব্যবসা পাচ্ছে। আগে যেখানে ২% বা ৩% ব্যবসা পেত এখন প্রায় ৬% ব্যবসা পাচ্ছে। গতমাসে আমরা ৯% ব্যবসা দিয়েছি। এর কারণ হলো সব শ্রেণির মানুষ ইয়ামাহা পছন্দ করেছে। ডিজাইন সার্ভিস থেকে শুরু করে মাইলেজ সব কিছুতেই ইয়ামাহা মানুষের প্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন আমরা যে এগ্রিবিজনেসে মটর সাইকেলটি দিয়েছি। এটা পার্ট অব কমিটমেন্ট। আমরা যে কৃষকের জীবনে গতি আনতে চাই তারই অংশ হিসেবে মোটরসাইকেল যুক্ত করেছি। এরপর গাড়িতে ওঠাব। ক্রমে এক সময় প্লেনে ওঠাব।

মোটরসাইকেল বাজারের পরিস্থিতি

সব ব্র্যান্ড মিলে আমাদের দেশে গত বছর ২ লাখ ৭০ হাজার মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। বিক্রির গ্রোথ ছিল ৪৮%। এর কারণ বলবো, মানুষ সমৃদ্ধ হচ্ছে। সমৃদ্ধি আসলেই মানুষ গতি চায়। ৪৮% গ্রোথ কিন্তু ভালো পর্যায়ের গ্রোথ।

দামের তারতম্য হয় কেন

ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের কথাই যদি বলা হয়; পুরো মোটরসাইেেকল ম্যানুফ্যাকচার করে দেশে আনা হয়। পুরো ডিজাইন বা অধিকাংশ যন্ত্রপাতি জাপানে তৈরি। সেগুলো ইন্ডিয়াতে এসে অ্যাসেম্বল হয়েছে। এটা জাপানি ইয়ামাহার ক্ষেত্রে। আর আমাদের দেশে যখন মোটরসাইকেল আমদানি করি তখন; যে মোটরসাইকেলটা সিভিও কন্ডিশনে আনি তার ডিউটি থাকে ১৫২%। অর্থাৎ ১০০টাকা মূল্যের মোটরসাইকেলটির সঙ্গে আরও ১৫২ টাকা যোগ করে ২৫২টা বিক্রি করতে হয়। ১ লক্ষ টাকায় যেটি আমদানি করতে হয় ডিউটিসহ সেটির ক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ২লক্ষ ৫২ হাজার টাকা। আবার যেগুলো সিকেডি করা হয় সেগুলোর জন্য ১২৮% ডিউটি দিতে হয়। যদিও ১৫২ ও ১২৮ এর মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। আর লোকাল যারা উৎপাদন করে তাদের জন্য ৯০%। এখন হিসাব হচ্ছে মানুষ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করে না কেন?

মোটরসাইকেল এমন একটি জিনিস; এত হাই একটা ইড্রাস্ট্রি। এগুলো উৎপাদনের জন্য আমাদের দেশে তেমন প্রস্তুতি নেই। যারা লোকালি ম্যানুফ্যাকচার করছে সেগুলো মোস্ট অব ৯০ বা ১০০ সিসির মধ্যে। আর ইয়ামাহা মোটরসাইকেল যেগুলো আমদানি করা হচ্ছে সেগুলো ১১০ থেকে ১৫০ সিসির মধ্যে। যারা অনেক উঁচু স্বপ্ন দেখে। অনেক দূরে যেতে চায়। একটু রিল্যাক্স চায় তারা কিন্তু এধরনের মোটরসাইকেলই কিনবে। বিশেষ করে ইয়াং জেনারেশন এগুলোই খুঁজে।

আমি মনে করি যেহেতু আমাদের দেশে উৎপাদন শুরু হয়েছে; ধীরে ধীরে আমরা এটি পুরোপুরি শিখে নিব। এরপর ১১০ বা ১৫০ সিসির মোটরসাইকেল উৎপাদন করা সহজ হবে। আমি আশা করছি আগামি ৩ বছরের মধ্যে আমরাও উৎপাদন শুরু করবো।

আমরা নেওয়ার পর ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের বিক্রি বেড়েছে। গত মাসেও ২০০০ পিস মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। যা আমাদের কাছে আসার আগে কোনোদিনও সম্ভব হয়নি। আগে সর্বোচ্চ ৮০০/৯০০ পিস বিক্রি হতো । মানুষ মডেল, প্রাই, এরপর সেফটি সব দিক বিবেচনা করেই ইয়ামাহা মোটরসাইকেল কিনতে চায়।

আগের ইয়ামাহা ও বর্তমানের ইয়ামাহার মধ্যে পার্থক্য

একটা ঘটনা বলা যাক। গতকাল আমি গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলাম। কারওয়ানবাজার গিয়ে দেখলাম একটা ইয়ামাহা দাঁড়ানো। ওগুলো ১০০সিসি। প্রথম দেখে আমি চিনতে পারলাম না। মনে হলো অন্য কোনো কোম্পানির হবে হয়ত। এরপর ভালোভাবে লক্ষ্য করে দেখলাম ওগুলো ইয়ামাহা কোম্পানিরই। তাদের কাছে এর বয়স জিজ্ঞাসা করতে একজন বললেন ২৮বছর আরেকজন বললেন ৩০ বছর। আর এখন যে ইয়ামাহা বাজারে আছে এটি রকেট সাইজের কাছাকাছি। যেভাবে ডিজাইন করা হয়েছে এবং সাজানো হয়েছে পুরোটাই ডিফরেন্ট। আগেরগুলো ছিল ইফেক্টিভ, ওয়ার্কেবল এবং ব্যবহার উপযোগী। আর এখনকারগুলো অনেক ফেন্সি লুক, অনেক স্পিডি লুক, অনেক সুন্দর করে করা। বর্তমানে বাংলাদেশে যতগুলো কোম্পানির মোটরসাইকেল আছে তারমধ্যে সবচেয়ে কম ফুয়েল খরচে বেশি মাইলেজ হচ্ছে ইয়ামাহা।

একটি দেশকে এগোতে হলে আগে ওই দেশের মানুষকে এগোতে হবে। মানুষের জন্যই তো দেশ। প্রতিটি মানুষেরই দেশের কাছে বিশেষ প্রত্যাশা থাকে। একটি সুন্দর হাসপাতাল হোক, সুন্দর রাস্তা হোক, এমনটি যেমন আমরা চাই তেমনি একজন নাগরিক হিসেবে আমার সুন্দর একটি গাড়ি হোক সুন্দর একটি মোটরসাইকেল হোক এটিও আমাদের চাওয়া। মোটরসাইকেলটিকে যদি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে দেখা হতো এবং ভ্যাট কমানো হতো তাহলে মানুষ অনেক কম মূল্যে মোটরসাইকেল পেত। অনেক কম দামে কিনতে পারলে অনেক বেশি মানুষ মোটরসাইকেল ব্যবহার করতো। এতে দেশের মানুষের গতি বাড়তো। ফলে মানুষ দেশের ইকোনোমিতে আরো বেশি অবদান রাখতে পারতো। সেটা ডিরেক্টই হোক আর ইনডিরেক্টই হোক। যেমন মোবাইল ফোন হওয়ার কারণে কমিউনিকেশন বেড়েছে। কমিউনিকেশন বাড়ার ফলে ব্যবসায় গতি এসেছে। একইভাবে মোটরসাইকেলের কারণেও গতি আসতে পারে। ডিউটি ধরে সরকার যে টাকা পায় তারচেয়ে অনেক বেশি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে যদি ডিউটি কমিয়ে দিয়ে জনগণের ব্যবহার বাড়ানো যায়। গরুর গাড়ির চাকা বিক্রি হলে যেমন ডিউটি লাগে না তেমনি মোটরসাইকেল বিক্রিতেও ডিউটি কমিয়ে আনা উচিত। মোটরসাইকেল মোটেও লাক্সারিয়াস আইটেম না যে এটায় এত বেশি ডিউটি ধরতে হবে। এদেশের অধিকাংশ নিম্নবিত্তের মানুষ মোটরসাইকেল চালায়। প্রয়োজনেই চালায়। সো এটি একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় আইটেম। তাই এর ডিউটি কমাতে হবে। আশা করি সরকার বিষয়টি সদয়ভাবে বিবেচনা করবেন।

Dr. F H Ansarey
Managing Director & CEO
ACI Motors Limited
ACI Agrolink Limited
Premiaflex Plastics Limited
ACI Agribusinesses

Source: আজকের বাজার: এসএআরএস/আরআর/ ডিএইচ/ ৩১ মে ২০১৭

স্বাধীন দেশে এই প্রথম ভ্যাট দিতে হবে কৃষককে : এফ এইচ আনসারী

Date: 21 Jun 2017

বাংলাদেশ সরকার কৃষি খাত নিয়ে একটি পরিকল্পনা করেছে। পরিকল্পনাটা হলো, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকতে হবে । এ বিষয়ে যে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে তার লক্ষ্য কৃষকের আয় বাড়াতে হবে আর ইল্ড বা উৎপাদনও বাড়াতে হবে । এ দুটো জিনিস হওয়ার পর যেটা করতে হবে টেকনোলজি নিয়ে আসতে হবে। কৃষি ও কৃষকের জন্য যেটা খুব দরকার । এই কাজটা সরকার গত কয়েক বছর ধরে করে যাচ্ছে। কৃষি যন্ত্রপাতিতে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে। ধান লাগানোর যন্ত্রপাতিতে ৫০ ভাগ ভর্তুকি দিচ্ছে, আবার ধান কাটার যন্ত্রপাতিতেও ৫০ পার্সেন্ট ভর্তুকি দিচ্ছে। তাহলে দাঁড়ালো কী? সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দিচ্ছে যন্ত্রপাতি প্রমোট করার কাজে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা। অর্থাৎ সরকারের কিন্তু একটা নির্দিষ্ট গোল আছে এবং সেভাবে সব কিছু হয়ে আসছে।

এবারই হঠাৎ আমরা দেখলাম কৃষি যন্ত্রপাতির উপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। তাও এই ভ্যাট বিক্রয় পর্যায়ে ভ্যাট অর্থাৎ কৃষক যখন যন্ত্রটা কিনবে তখন ইনভয়েসে লেখা থাকবে দাম কত ? আর ভ্যাট কত ? উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ট্রাক্টর যখন বাংলাদেশে আসবে তখন আমাদের ১৫ পার্সেন্ট ভ্যাট দিতে হবে, আবার যখন সেটা কৃষকের কাছে বিক্রি করা হবে তখনো ১৫ ভাগ ভ্যাট আমরা আদায় করে নিব। তাহলে ১৫ পার্সেন্ট ভ্যাটটা থেকে যাচ্ছে । ধান লাগানো যন্ত্রের উপর ১৫ এবং ধান কাটা যন্ত্রের উপর ১৫ পার্সেন্ট ভ্যাট দিতে হচ্ছে। তাহলে এর কী প্রভাব পড়বে ?

১০ লক্ষ টাকার একটা ট্রাক্টরে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ভ্যাট দিতে হবে। পাশাপাশি এর সঙ্গে অন্যান্য যে উপাদান ও যন্ত্রাংশ লাগবে তার সবগুলো যোগ করলে প্রায় ২ লাখ টাকার ভ্যাট দিতে হচ্ছে । ৭ লাখ টাকার একটা কম্বাইন্ড হারভেস্টে দেড় লাখ টাকা ভ্যাট দিতে হচ্ছে।

আবার যে ধান লাগানোর যন্ত্র এখনো সূর্যের মুখ দেখেনি কেবল ইন্ট্রিউিউস হচ্ছে তার উপরও কিন্তু ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার একটা যন্ত্রে ৬০ হাজার টাকার মতো ভ্যাট দিতে হবে। এখন অবস্থাটা কী দাঁড়াবে? কৃষক যখন এগুলো কিনতে যাবে তখন এই অবস্থা দেখে সে চমকে যাবে । সে ভাববে তার কাছে যে টাকা ছিলো তার চেয়ে বেশি টাকা দিতে হবে আর তখনই সে আতংকিত হবে। আর একটা বিষয় হবে কী একটা সংশয়ের সৃষ্টি হবে। মনে হবে ভ্যাট বাড়তেও পারে আবার নাও বাড়তে পারে। একটা হ য ব র ল পরিস্থিতির তৈরি হবে। ফলে কৃষক এক এখন থেকে দেড় মাস পর্যন্ত কোনো যন্ত্রপাতি কিনবে না।

এখন টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। চালের দাম ইতিমধ্যে বেড়ে গিয়েছে, সামনে আরো বড় মৌসুম আসছে বর্ষাকাল। ওই সময় কৃষকের যন্ত্রপাতি দরকার কারণ তারা তখন ধান লাগাবে ও উৎপাদন করবে। এক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যহত হবে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, বিবেকের কাছে আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া উচিত ছিল যে আমরা একটা স্বাধীন দেশের নাগরিক। আজ থেকে ৪৫ বছর আগে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আর স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়ে আমাদের দেশের কৃষককে তাদের কৃষি যন্ত্রপাতি কিনতে ভ্যাট দিতে হবে কেন ? এবারই প্রথম কৃষি যন্ত্রপাতির উপর ভ্যাট ধরা হয়েছে। কিন্তু কৃষক জানে সরকার উৎপাদন করার সময় ভর্তুকি দেয় । বাজেটে কিন্তু ভর্তুকি রাখা হয়েছে ১৫শ' কোটি টাকা। পাশাপাশি যন্ত্রাংশের উপর ভ্যাট ধরা হয়েছে। তাহলে একদিকে ভর্তুকি দিচ্ছে অন্যদিকে ভ্যাট নিচ্ছে সরকার। এখানে এত বড় ভর্তুকি আছে অথচ বছরে ৮শ' ৯শ' কোটি টাকার যন্ত্রপাতি বিক্রি হয়। এর উপর যদি কৃষককে ভ্যাট না দিতে হতো তাহলে সরকারের আয় কমতো মাত্র ১শ কোটি বা সোয়াশ' কোটি টাকা । তাহলে ওখান থেকে মানে ভর্তুকি কম দিয়ে এখানে যদি ভ্যাট না রাখতো তাহলে কৃষকের ছেলে কৃষি কাজ করতো; কৃষক সহজে কৃষি কাজ করতো ।

জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ার কারণে যে সমস্যাটা হয়েছে তা হলো তাপমাত্রা অনেকাংশে বেড়ে গেছে। কৃষি কাজ কিন্তু ঘরে বসে হয় না; পানি দিতে বা মাটি দিতে হয় আর এই উচ্চ তাপমাত্রায় কৃষকেরও কাজ করতে ইচ্ছা হয়না । যদি কৃষকের কাছে যন্ত্র থাকতো তাহলে সহজে কাজ করতে পারতো । সহজে ও সময়মতো কাজটা করতে পারলে উৎপাদন বাড়তো ও খরচ অনেকাংশে কমে যেত। প্রায় ২০ ভাগ খরচ কমে গেলে যেটা হতো তা হচ্ছে কম দামে চাল বিক্রি করেও কৃষকের লাভ হতো। সরকার বলেছিল যে কৃষকের আয় বাড়াতে হবে আর উৎপাদন বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে কৃষি যন্ত্রপাতিই একমাত্র সম্বল আমাদের যেটাতে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব আবার কৃষকের আয়ও বাড়ানো সম্ভব এবং খরচও কমানো সম্ভব। আমি মনে করি এটা মোটেও দায়িত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়নি। এই সিদ্ধান্তে নিশ্চয়ই কোথাও কোনো ভুল হয়েছে। তাই আমি মনে করি, খুব দ্রæত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কেননা কৃষকেরা এখনই যন্ত্রপাতি কিনবে এবং সামনের মৌসুমে তারা কাজে আরো ঝাঁপিয়ে পড়বে। ফলে এখন যে চালের দাম বেড়ে গেছে তা আস্তে আস্তে কমতে থাকবে। তাই এই মুহূর্তে ভ্যাটটা তুলে দেওয়া উচিত। আমি মনে করি, পার্লামেন্টে কৃষকের ভ্যাট নিয়ে যদি আলোচনা না হয় তাহলে সেটা হবে দুঃখজনক ব্যাপার ।

ইদানিং চালের দাম বাড়ছে কেন

চালের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বলবো যে, আমদের দেশে তেমন কোন পরিসংখ্যান নেই। যে কারণে কত ধান উৎপাদন হচ্ছে বা বা কতটা ধান নষ্ট হয়েছে তা জানা যায়না। এটা একটা সমস্যা। সাধারণত আমরা দেখতে পাই কৃষক ধান চাষ করেই যাচ্ছে, তো চালের দাম বেশি হওয়ার কোনো কারণ থাকেনা। আমাদের দেশে যেটা হয় কৃষক যখন দেখে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতে পারে বা চালের উৎপাদন কম হতে পারে তখন তারা ক্ষতির মুখে পড়ে, ফলে পরে দাম বাড়তে পারে। দ্বিতীয় সমস্যা যেটা তা হলো অতিরিক্ত বৃষ্টিতে কৃষকেরা ধান শুকাতে পারেনা, এর কারণেও দাম বাড়তে পারে। তবে সরকারের হঠাৎ করে এত চাল আমদানি করা উচিত হয়নি কেননা দেশের মানুষ কিন্তু না খেয়ে মরে যাচ্ছে না। কিন্তু চালের পরিমাণ কমে গেলে বা কমার সম্ভাবনা দেখা দিলে ধরে নেওয়া হয় এই বুঝি সব গেল। আমাদের দেশে ৩ কোটি টন চাল লাগে। আর সরকারের কাছে পর্যাপ্ত চাল থাকে। এইটা কমলেও কী আর বাড়লেও কী ? কিন্তু গুদামে চাল কমলে এটাকে একটা বেশ মান যাওয়া হিসেবে ধরে নেওয়া যায়। এতে মানুষ আতংকে পড়ে যায়। তখন মনে করা হয় যারা সুযোগের সন্ধানী তারা কিন্তু তখন হোডিং করতে থাকে হোডিং করলে সরবরাহ কমতে থাকে। তাই আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো, সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত যে ধান চাল কেউ মজুত করতে পারবে না। উৎপাদন করবে কিংবা বিক্রি করবে। দেখবেন পুরো পিকচার চেঞ্জ হয়ে যাবে । চালের দাম কমে যাবে। এটা আমার নিজস্ব মত যদিও আমার কাছে কোনো পরিসংখ্যান নেই।

ধান চালের দাম কমে যাবে যেভাবে

যদি ম্যানুয়ালি চাষ করা হয়,ম্যানুয়ালি পানি দেওয়া হয়, ধান কাটা হয় তাহলে এক কেজি ধান উৎপাদন করতে খরচ পড়ে ২০-২২ টাকা। আর চাষবাস যদি হয় যন্ত্র দিয়ে, পানি দেওয়া হয় যন্ত্র দিয়ে, লাগানো হলো যন্ত্র দিয়ে তাহলে খরচ পড়ে ১৪-১৫ টাকা। এখানে উৎপাদনে কেজি প্রতি কিন্তু ৭-৮ টাকা কমে যায়। যন্ত্র দিয়ে লাগালে সুবিধা হচ্ছে, ধান যখন লাগানো দরকার তখনই লাগানো যায়। ঠিকমত লাইনগুলো হবে ? ধান কাটার পর ধান ঝড়ে পড়বে না। তাতে কী হলো আপনার উৎপাদন বেড়ে গেলো। একদিকে ফলন বাড়লো আরেকদিকে খরচও কমে গেলো। আমরা ধরে নিলাম ফলন বাড়লো না, সেখানে খরচ যদি ৩০% কমে যায়, তাহলে সেটাই তো কৃষকের লাভ। এ লাভটা তো অনেক বেশি লাভ, তাহলে কি হলো কৃষকের উৎপাদন খরচটা কমে গেল। মাঝে মাঝে কৃষক কম দামে বিক্রি করলে কিন্তু সে লাভ করতে পারছে। সেটাই আমি যুক্তি হিসেবে ধরে নিচ্ছি।

বিক্রি না হওয়া এত আম কী করবে মানুষ?

এখন আমের মৌসুম, আমরা দেখছি প্রচুর আম বাজারে এসেছে, দামও কমে যাচ্ছে। আম এবার এক্সপোর্ট হওয়ার কথা কিন্তু তা হচ্ছে না, সবমিলিয়ে আমের বাজার কোথায় যাচ্ছে ? দেখুন, আম, কাঁঠাল কিন্তু আমাদের দেশের প্রধান ফল। আমার মনে হয় প্রতিটি গৃহস্থ লোকের বাড়ির আশ পাশে আম-কাঁঠালের গাছ আছে, কৃষকের বাড়ির উঠোনেও আম গাছ লাগানো আছে। আম কিন্তু একটি প্রধান অর্থকরি ফসল হিসেবে বাংলাদেশে আত্মপ্রকাশ করেছে। ফ্রুট হিসেবে আমের যেমন ভ্যালু আছে তেমনি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনপুট হিসেবেও তার ভ্যালু আছে। আম আমাদের দেশের মানুষ যেমন পছন্দ করে দেশের বাইরের মানুষও পছন্দ করে। বাইরের মানুষ কিন্তু ম্যাংগো জুস খায় এবং এর যথেষ্ট বড় একটি বাজার রয়েছে।

এখন যেটা হয়েছে যে আমার আম আমি হারভেস্ট করবো যখন আমি মনে করবো যে হারভেস্ট করা দরকার তখন। আমের সবচেয়ে বড় এলাকা হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ তারপর নতুন এলাকা হয়েছে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর সেখানে কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন বলেছে যে আম হারভেস্ট করা যাবে একটি নির্দিষ্ট আগে নয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে বলা হয়েছে ২৫ মে'র আগে আম হারভেস্ট করা যাবে না । আম হারভেস্ট করার ৩ টি পদ্ধতি আছে আছে, আরলি ম্যচিউরড, ম্যাচউির এবং রাইপ মানে পাকা আম । আরলি ম্যাচিউর থেকে ম্যাচিউর হয়ে আসতে সময় লাগে ১০ থেকে ১৫ দিন। পরিণত থেকে পাকতে লাগে আরও ১০-১৫ দিন আর পাকার পরে আম থাকে আরও ১০-১৫দিন। এই যে ৩০-৪৫ দিনের একটি গ্যাপ আছে, ধরেন ৩০-৪৫ দিনের। এই সময়ের গ্যাপটি যদি কৃষকের নিয়ন্ত্রণে থাকে কৃষক কী করবে? তার গাছের সব আম তো আর এক সাথে পাকে না যেগুলো আরলি ম্যাচিউরড সেগুলো আগে নামাবে, তার পর যেগুলো ম্যাচিউরড সেটা নামাবে তার পর পাকাটা নামাবে, লাভ হবে এই আম কৃষক ধরে ধরে আস্তে আস্তে বিক্রি করবে।

এখন যেটা করেছে, দিন নির্ধারণ করার কারণে সবধরনের আম প্রায় একই সাথে নামাতে হচ্ছে, কারণ আর্লি ম্যচিউরডটা ম্যাচিউরড হয়ে গেছে, ম্যাচিউরডটা প্রায় পেকে গেছে। এখন সব আম একসঙ্গে নামানোর পর কী হয়েছে ? তার পরে যখন সময় পেল মাত্র দুই-তিন দিন, তারপর রোজা শুরু হয়ে গেল। আমরা জানি, রোজাতে মানুষ দুইবার খায়। একবার খায় সন্ধ্যার সময়, একবার খায় সেহরির সময়। সকাল বেলায় কেউ আম দিয়ে কিন্তু রোজা ধরবে না, কারণ অনেকেরই অ্যাসিডিটি প্রবলেম আছে। বা এটা সাধারণত কেউ করে না। সাধারণত ইফতার করার পর একটু আম খায়, এক-দুই পিস। কিন্তু আম এদেশের মানুষ কীভাবে খায় ? সকালবেলা খায়, দুপুর বেলা খায়, বিকাল বেলা খায়, নাস্তা খায় সবই আম দিয়ে খায়। যে দেশের মানুষ ছয়-সাত বার আম খায়, সে দেশের মানুষ এখন একবার আম খাচ্ছে। এখন কী হয়েছে? অনেক আম একসাথে পেকে গেছে। অনেক আম একসাথে বাজারে চলে আসছে, যার কারণে আমের দাম স্থানীয় পর্যায়ে যেখানে আম হারভেস্ট হয়,সেখানে অনেক কমে গেছে।

ঢাকা শহরের মানুষ, ঠিক আছে, এখনও পঞ্চাশ-ষাট-সত্তর টাকায় আম কিনে খাচ্ছে। কিন্তু যেখান থেকে আম বিক্রি হচ্ছে, সেখানে পঁচিশ-ত্রিশ টাকায় আম বিক্রি হচ্ছে। প্রবলেম যেটা হলো, এতো আম এখন করবে কী মানুষ ? কিছুদিন পর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাবে। আম তো রাখা যায় না বেশি দিন। আবার আমরা জানিও না যে, আম হারভেস্ট করে কিভাবে আম রাখতে হয়। আম ধুতে হবে, নাহলে তার গায়ে যে আঠা থাকে, আঠার কারণে ফাঙ্গাস হতে পারে, ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। যে আম ১৫ দিন রাখা যাবে, সে আম ৫ দিনও রাখা গেলো না। এই যে একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে, এই অবস্থাটা আমি বলবো একটা দুর্বিসহ অবস্থা। এই দুর্বিসহ অবস্থার কারণে আমি মনে করি যারা এ সমস্ত সাজেশন দিয়েছে বা যে সমস্ত ফোর্স প্রয়োগ করেছে, এটা একেবারেই করা উচিত হয়নি, এটা অনিয়মতান্ত্রিক হয়ে গেছে। আর মাঝখানে একটা যে ঘটনা ঘটেছে,সেটা হচ্ছে এক্সপোর্টের জন্য আমরা বলেছি কৃষককে, ঠোঙ্গা লাগিয়ে আম চাষ করো। এখন এক্সপোর্ট হবে কি হবে না, একটা দোদুল্যমান অবস্থার মধ্যে রয়েছে। এখন কৃষককে গাছ থেকে তো আম নামাতে হচ্ছে। আম নামিয়ে তো তারা রাখতে পারবে না। এক্সপোর্টের আম তো ম্যাচিউরড বা আর্লি ম্যাচিউরড আম পাঠাতে হয়। পাকা আম এক্সপোর্ট করা যাবে না। এখন এই পরিস্থিতিতে যদি এক্সপোর্ট না হয়, কৃষকের অনেক ক্ষতি হবে এবং ক্ষতি হওয়া শুরুও হয়ে গেছে।

আজকের পত্রিকাতেও দেখলাম এবিষয়ে লেখালেখি হয়েছে। এবং এটাই যদি সত্যি হয় এর পরে কেউ আর ঠোঙ্গা দিয়ে আম চাষাবাদ করবে না। ঠোঙ্গা বা ফ্রুট ক্যাপ দিয়ে আম চাষ করার অ্যাডভান্টেজ দুইটা। একটা হলো, দেখতে অনেক সুন্দর হয় এবং সুমিষ্ট হয়। তার কারণ হলো, এটা সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকে বলে কীটনাশক লাগে না, অন্য কিছু লাগে না। তো এই জিনিসগুলো যদি একটু টেকনিক্যালি দিতে গেলাম, কিন্তু যেহেতু মার্কেট পেল না, যার জন্য টেকনোলজিটা রিভার্স হয়ে গেল। এই দুর্বিসহ অবস্থা থেকে কৃষককে মুক্তি দেয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে, সরকার পর্যায়ে নেগোশিয়েট করা। বাইরে যেখানে যেখানে আম যাওয়ার কথা, আমার মনে হয় যে, বিমানের ভাড়া কমিয়ে দিতে পারে সরকার যাতে করে ব্যবসায়ীরা আমগুলো তাড়াতাড়ি বিদেশে পাঠাতে পারে। আমকে লাভজনক ফসল হিসেবে ধরে কৃষকের সুবিধার জন্য সরকারের জরুরি ব্যবস্থা নেয়া উচিত।এয়ারপোর্টে রেড অ্যালার্ট

কীটতত্ত¡ ডিপার্টমেন্ট বলেছে যে, আমরা তোমাদের আম সব চেক করবো তারপর ঠোঙ্গা খুলতে দিবো, এই যে একটা ব্যাপার এটা অভ্যন্তরীণ একটা ব্যাপার। আমাদের কৃষকের উপরে বিশ্বাস থাকা উচিত, তারা বলছে প্রি চেক করার পর যাবে। আমাদের দেশের ব্রিলিয়ান্ট বিজ্ঞানীরা এটা সুপারভাইজ করেছে। তাই কনফিডেন্স তো নিজের উপর থাকা উচিত। তাতে হবে কি কেউ তো আম পাঠিয়ে ব্যাক করে আনবে না। আমার মনে হয় কীটতত্ত¡ বিভাগের এতো কড়া হওয়া উচিত না। এখানে ছাড় দেয়া উচিত,আমাদের দেশের মিশনগুলো বাইরে কথা বলতে পারে যে আমরা তোমাদের জন্য এতো আম প্রস্তুত করেছি, এসব আম আসতে দাও। এখানে কীটনাশক বা হেভি মেটাল অ্যাপ্লাই করেনি এগুলো ভালো আম। এভাবে এর মার্কেট ক্রিয়েট করে কৃষককে সহযোগিতা করা উচিত।

ইউরোপে অন্যান্য দেশ থেকেও প্রচুর আম যায়, ফিলিপিনস, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম থেকে যায়। আমাদের দেশ থেকে এক্ষুণি ৫-৬ হাজার টন আম যেতে পারে। আমি যতটুকু শুনেছি এবার প্রায় ৩ হাজার টন আম এক্সপোর্ট করার জন্য ঠোঙ্গা করে রেখেছে। এ ঠোঙ্গা কিন্তু একটা ব্যয়বহুল ব্যবস্থা। ১ কেজি আমে ঠোঙ্গা করতে প্রায় ১২-১৩ টাকা খরচ হয়, এটা কিন্তু অনেক টাকা। আর ঠোঙ্গা লাগিয়ে যদি মার্কেটে বিক্রি করতে আসে তাহলে ৯০ টাকায় বিক্রি না করলে লাভ হবে না, ৯০ টাকায় আম বিক্রি এখন খুব কঠিন। বাজারে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে কৃষকের মাঠে আসলে পাওয়া যায় ২৫-৩০ টাকায়।

কৃষি নিয়ে পড়াশোনায় আগ্রহ সৃষ্টি

কৃষিতে পড়াশোনার কয়েকটি ধাপ আছে, একটি হলো কৃষিতে হায়ার ডিগ্রি, বিএসসি-এমএসি। তারা গবেষণা করবে। আরেকটি হলো ডিপ্লোমা, এরা মাঠে-ময়দানে কৃষকের পাশে থেকে কাজ করবে। অন্যটি হলো সেমি ডিপ্লোমা যারা কৃষিপণ্যের ডিলার হবে , ট্রাক্ট্রর চালাবে, পাওয়ার টিলার চালাবে। আমাদের দেশে হায়ার ডিগ্রি প্রচুর পরিমাণে বের হচ্ছে প্রতি বছর। শেষে যেটা বলেছিলাম সেটা হলো সেমি-ডিপ্লোমা,এর উপর জোর দেয়া উচিত। আমাদের দেশে কোনও ডিলার যারা সার বেচে, বীজ বেচে ,কীটনাশক বেচে, কৃষি যন্ত্রপাতি বিক্রি করে অথবা কৃষির অন্যান্য রসদ বিক্রি করে তাদের কমপক্ষে ১৫ দিনের ট্রেনিং ছাড়া কোন অবস্থাতে লাইসেন্স দেয়া উচিত নয়। এখন কি হয়েছে সমস্ত টেকনোলজি দেশের বাইরে থেকে আসে। দেশীয় টেকনোলজি আছে কিন্তু যথেষ্ট না। প্রাইভেট সেক্টরগুলো কি করে, তারা তাদের ডিলারদের কাছে টেকনোলজিগুলো দিয়ে দেয় আর কৃষকের প্রবলেম হলে দৌঁড়ে আসে ডিলারদের কাছে। তাদের কাছ থেকে বাকি নেয়। কখনো তাদের কথা শুনে কৃষক কিন্তু লাভবান হয়েছে । এই অশিক্ষিত ডিলার কৃষককে অ্যাডভাইস করছে বা তার হাতে পণ্য তুলে দিচ্ছে। এতে কখনো লাভ হয় কখনো লাভ হয় না। এজন্য এইসব ডিলারদের ট্রেনিং হওয়া উচিত। আমি তো ১৫ দিন বলেছি, এটা ৩ মাস হওয়া দরকার। যারা অলরেডি ডিলার তাদের লাইসেন্স রিনিউ করতে হলে ৩ মাস ট্রেনিং দরকার। আর যারা লাইসেন্স ছাড়া ডিলার তাদেরও ১৫দিন থেকে ৩ মাস ট্রেনিং করতে হবে।

লোকাল কোম্পানিগুলোর জন্য ট্যাক্স হলিডে

আমাদের যে সকল যন্ত্রপাতি সফলভাবে প্রচলন হয়েছে যেমন, ট্রাক্টর এবং পাওার টিলার। এই দেশের প্রায় ৯০ ভাগ জমি ট্রাক্টর এবং পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ হয়। আর ধান লাগানোর যন্ত্র মাত্রই ছাড় হয়েছে। এর মাধ্যমে কেউ যদি ব্যবসা করে তার মুনাফা হবে, কেউ যদি ধান লাগায় তাহলে ফলন বাড়বে, তার মুনাফা হবে, কম্বাইন্ড হারভেস্টারের ক্ষেত্রে- হাওরে যখন ধান ডুবে গেলো অথচ ধান কাটার লোক নেই, সারা দেশ যখন বর্ষার পানিতে থৈ থৈ করছে এবং ধান কাটার শ্রমিক নেই তখন এই যন্ত্র দিয়ে অনেকেই ধান কেটেছে।

এভাবে ধান কাটলে সব জায়গায় লাভজনকভাবে ধান কাটা সম্ভব। এই যন্ত্রপাতির কোনোটাই দেশে উৎপাদিত হয় না প্রায় সবগুলো বাইরে থেকে আসে। পাওয়ার টিলারের ক্ষেত্রে ছোট খাটো ইনসেন্টিভ আছে। তবে তা অ্যাসেম্বলের সময়। কিন্তু যেহেতু বিক্রি পর্যায়ে ভ্যাটের কথা বলা হয়েছে তাহলে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, অন্যান্য হারভেস্টার, ধান লাগানোর যন্ত্র যাই কিনুক না কেন, সেটা দেশি হোক আর বিদেশি হোক তাকে ভ্যাট দিতেই হবে অর্থাৎ কৃষককেই ভ্যাট দিতে হবে। এবং এটা পুরোপুরিভাবে ইম্পোজ করা হয়েছে কৃষকের উপরে। যারা আমদানি করছে তারা কিন্তু ভ্যাট দিবে না। আমদানিকারকরা ভ্যাট আদায় করে নিচ্ছে কৃষকের কাছে থেকে। মূল কথা হলো কৃষককেই ভ্যাট দিতে হচ্ছে। এই ভ্যাট দেওয়ার ব্যাপারটি প্রোডাক্ট কিংবা আমদানিকারকদের সাথে সম্পৃক্ত নয়।

আমরা কি বলতে পারি এটা সরকারের দ্বৈত নীতি?

সরকারের অনেক দায়িত্ববান হওয়া উচিত। আমি মনে করি কোথাও ভুল হয়ে গেছে। অথবা কেউ দায়িত্বহীন ভাবে কাজটি করেছে। দায়িত্বপূর্ণ ব্যাপারটি হলো, একদিকে যেমন কৃষককে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে অন্যদিকে তার ওপর ভ্যাট যুক্ত হচ্ছে। এই ভ্যাট থেকে মাত্র ১২০-১৩০ কোটি টাকা আসবে। এটা পরিমাণে খুবই কম। তাছাড়া এই সকল যন্ত্রপাতিতে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ৫০% পর্যন্ত। তাহলে এটা কনফিউজিং হবে। সবমিলিয়ে আমি মনে করি না যে এটা খুব একটা ভালো কাজ হয়েছে। ইমিডিয়েটলি এটা সংশোধন করা উচিত।

Dr. F H Ansarey
Managing Director & CEO
ACI Motors Limited
ACI Agrolink Limited
Premiaflex Plastics Limited
ACI Agribusinesses

Source: আজকের বাজার: এসএআরএস/আরআর/ ডিএইচ/ ৩১ মে ২০১৭

দেশীয় ফলমূলে ফরমালিন নেই:ড.এফএইচ আনসারী

Date: 15 Jun 2017

প্রথমেই একটা আনন্দের খবর দেওয়া যাক; সম্প্রতি প্রতিটি পত্রিকায়ই সরকার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে যে, ফলমূলে এখন আর কোনো ফরমালিন নেই। সরকারের এ সমর্থনটা আমাদের দেশের কৃষকের জন্য বড় ব্যাপার। এই ফরমালিনের বিপক্ষে কিন্তু আমি দীর্ঘদিন ধরে কথা বলে আসছি। আমাদের দেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এখানে শাক সবজি চাষ করা হয়। এসবের ওপর নির্ভর করে অনেক পরিবারের জীবিকা। অথচ এই ফরমালিনের কারনে কিন্তু কৃষকদের একটা সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছিল। মানুষ সহজে কিছু কিনতে চাইত না, কারণ তারা মনে করতো এসবে ফরমালিন আছে। এখন সরকারের এ ধরনের প্রচার বা উদ্যোগের মাধ্যমে ফরমালিন সমস্যার সমাধান হবে।

মানুষ দেশি ফল পছন্দ করে। যখন প্রচার হতে লাগল যে, দেশি ফলে ফরমালিন আর কেবলই ফরমালিন; তখন বিদেশি ফলে বাজার ভরে গেল। দেশি শাক সবজি, ফল-মূল ক্ষতিগ্রস্ত হতে লাগল। এখন তিন বছর পরে হলেও সরকার বলছে, দেশি ফল-মূল, শাক-সবজিতে ফরমালিন নেই। এখন এটার ব্যপক প্রচার দরকার। তাহলে মানুষের মধ্য থেকে আতঙ্ক কেটে যাবে।

যে পরিমাণ ফরামলিনে মানুষের ক্ষতি হয় না

আমাদের দেশে ফল-মূলে যে পরিমাণ ফরমালিন থাকে ওতে ক্ষতির কোনো কারণ নেই। আমাদের দেশে সাধারণত কৃষকেরা ফরমালিন ব্যবহার করে না। কারণ, ফরমালিন ব্যবহার করলে মূল রঙটা হারিয়ে যায়। আমরা নিশ্চিতভাবেই বলছি, কোনোভাবেই ফরমালিন নেই। আর যেটুকু ন্যাচারাল ফরমালিন থাকে সেটুকুতে মানুষের শরীরের কোনো ক্ষতি নেই।

দেশী আম কেন আগের মতো সবুজ নয়

আমাদের দেশীয় ফলে বিশেষ করে আমে দেখা যাচ্ছে আগের মতো সবুজ রঙটা পাচ্ছে না। আম পাকলে হলুদ অথবা লাল হয়ে যাচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে, গত কয়েক বছর ধরে আম এক্সপোর্ট করার জন্য ফ্রুট ব্যাগিং বা ঠোঙা লাগিয়ে বড় করা হচ্ছে। এটাকে হারভেস্ট করা হচ্ছে। এতে সূর্যের আলো কম পায় বলে সবুজ ভাবটা কম থাকে। আর পাকলে হলুদ হয়ে যায় অথবা লাল হয়ে যায়। আর সুবিধা হচ্ছে, এতে পোকা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আর স্বাদটাও ভালো থাকে, দেখতেও ভালো হয়।

এখনো আমাদের দেশে মানুষের মধ্যে একটা বিষয় কাজ করে যে ফলে মাছি না বসলে ধরে নেওয়া হয় সেটায় ফরমালিন রয়েছে। কিন্তু বুঝতে হবে, বর্তমানে তো এমনিতেই মাছি নেই। মাছি না থাকলে বসবে কীভাবে? আর এ ধারণাটিও ভুল। ফরমালিন তো আর মাছি তাড়ায় না। ফমালিনের কাজ হচ্ছে ব্যাকটেরিয়া নির্গমন করা। এটি পঁচন রোধ করে।

লিচু বেশিদিন সংরক্ষণের উপায়

লিচু অত্যন্ত রসালো ফল। এর মধ্যে পানির পরিমাণ বেশি থাকে। কোনো ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশের বেশি পানি থাকে লিচুতে। এভাবে বেশি সময় সংরক্ষণ করা যায় না। আর কোনোভাবে গুদামে রাখলেও সেখান থেকে বের করে বাজারজাত করার পর এক দেড় ঘণ্টার মধ্যে পঁচন শুরু হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে এটাকে জুস বানিয়ে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। তাহলে মানুষ জুস পানের মাধ্যমে হলেও লিচুর স্বাদ পাবে।

দেশীয় ফল নিয়ে এসিআই'র পরিকল্পনা

কৃষিতে এসিআই বড় আকারে ভ্যালু অ্যাড করার চেষ্টা করছে। গমের মিল করেছে, ধানের মিল করেছে, লবনের মিল করেছে, ফুড প্রসেসিং করছে। এখন ফল সেক্টর নিয়েও কাজ করার কথা চিন্তা করা হচ্ছে। টমেটো বা যে কোনো ফল থেকে জুস বানানোর চিন্তা করা হচ্ছে। আম নিয়েও আমাদের চেষ্টা রয়েছে। আমের ভেতরেও পানির পরিমাণ অনেক বেশি। ফলে আমও বেশিদিন গুদামে রাখা কঠিন। ৩০ দিনের মতো স্টোরেজ করে রাখার একটা পথ কিংবা উপায় গবেষণা করে পাওয়া গেছে। তবে আমাদের দেশের পরিবেশ বা আমাদের দেশীয় জাত, এগুলোর ওপরে কিন্তু কোনও গবেষণা নেই। চীন বা ইন্দোনেশিয়ায় এ ধরনের গবেষণা রয়েছে। কারণ সেদেশে আম স্টোরেজ করে খাওয়া হয়। আমরাও চেষ্টা করছি, দেশীয় আম কীভাবে বেশি দিন ইকোনোমিক্যালি রাখা যায়। গবেষণা শেষ হলে এতে আমরা বিনিয়োগ করবো।

আসল জুস কোনটা

আমদের দেশে যেগুলো জুস বলে বিক্রি করা হয় এগুলো আসলে জুস নয়। এগুলো ড্রিংকস। এর কোনোটায় ফেভার যুক্ত করা হয় আবার কোনোটায় পাল্ব মেশানো হয়। পাল্বও ৬ শতাংশের বেশি থাকে না। তাই আমরা এগুলোকে জুস বলতে পারি না। তবে এ ড্রিংকসগুলোতে ক্যামিক্যাল থাকার কোনো সম্ভবনা নেই। কারণ, যে পানি ব্যবহার করা হয় সেগুলো ব্যাকটেরিয়া মুক্ত থাকে। যে পাল্ব ব্যবহার করা হয় সেগুলো এবং প্যাকেটগুলোও ব্যাকটেরিয়া মুক্ত থাকে। অতএব খাওয়া যাবে না এরকম ক্যামিক্যাল থাকে না। কিন্তু যে ফেভার ও রঙ ব্যবহার করা হয় সেটি ক্যামিক্যাল হলেও খাওয়া যায়।

শাক-সবজি বেশিদিন সংরক্ষণের উপায়

যে কোনো কিছু দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে হলে আগে সেটির জাত বাছাই করতে হবে। টমেটো যেমন স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখলেও স্বাভাবিকভাবেই ১৪/১৫ দিন থাকবে। কেবল রোদে না রাখলেই হবে। এক্ষেত্রে বাড়তি কিছু করার প্রয়োজন নেই। আর একটু ঠান্ডা জায়গায় রাখতে পারলে আরো দু'দিন বেশি থাকবে। এটি হারভেস্ট করার পর একটা বক্সে রাখলে এবং বক্সের মুখ যদি খোলা থাকে তাহলে আরও দু'একদিন বেশি সংরক্ষণ করা সম্ভব। কিন্তু যখনই টমেটোকে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হবে তখনই এটি দ্রুত নষ্ট হতে থাকবে। আসলে একটু সুন্দরভাবে স্টোরেজ করলেই কিছুদিন বেশি সংরক্ষণ করা সম্ভব। এরজন্য বেশি কিছু করতে হবে না।

অর্গানিক ফুড জরুরি নয়

আমাদের দেশে অর্গানিক ফুড খাওয়া একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। এটি জরুরি নয়। অর্গানিক ও নন অর্গানিকের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। পরীক্ষা করে পাওয়া গেছে, বাংলাদেশের খাবারে তেমন কোনো হেভি ম্যাটার বা ক্ষতিকর ক্যামিক্যাল নেই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেক বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে। আর ব্যাকটেরিয়া অর্গানিক ফুডেও থাকতে পারে। ব্যাকটেরিয়াটি সাধারণত পানি থেকে যুক্ত হয়। এটি অর্গানিক ফুড ধুলেও যোগ হবে নন অর্গানিক ফুড ধুলেও যোগ হবে। তাই আমি জোর দিয়েই বলছি, অর্গানিক ফুড আমাদের দেশে মোটেও জরুরি নয়। এটা সম্পূর্ণ সাইকোলজিক্যাল বিষয়। আর যারা এসব উৎপাদন করছেন তারাও কিন্তু বাণিজ্যিক কারণেই উৎপাদন করছেন।<

বড় বাজেট আর কৃষি

আমাদের বাজেটের আকার বড় হচ্ছে কিন্তু এটার তো প্রয়োজনও রয়েছে। রাস্তাঘাট বানাতে হয়, হাসপাতাল বানাতে হয়, ওষুধ কিনতে হয়। সেক্ষেত্রে আমি বলবো যে, কৃষি খাতে যে বাজেট দেয়া হয়েছে, এটা ছোট না বড় তা কোনো বিষয় না। বিষয় হচ্ছে যতটুকুই পাই সেটুকুকে এমনভাবে ব্যবহার করা যেন সত্যিকার অর্থে একটা ফলাফল আসে।

আর অ্যানিমেল ফার্মিংয়ে সরকার যে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত ট্যাক্স মওকুফ করেছে সেটির সময় আরো বাড়াতে হবে। এটাকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত করতে হবে। কারণ, আমরা পোল্ট্রিতে এখনো স্বংয়সম্পূর্ণ নই। পোল্ট্রি এমন একটি সেক্টর যেখানে অতি অল্প সময়ে মাংস উৎপাদন করা যায়। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে মেধাবি রাখতে হলে প্রোটিন বা আমিষ খাওয়াতে হবে। আর প্রোটিনের বড় অংশের যোগান দিচ্ছে পোল্ট্রি। তাই এই শিল্পকে সহায়তা দেওয়া জরুরি।

প্রাণীসম্পদ নিয়েও ভাবতে হবে

কৃষির আরেকটি এরিয়া বা উপখাত হচ্ছে প্রাণীসম্পদ আরো সহজ করে বললে, গরু। জাতি হিসেবে আমরা অনেক কম গরুর দুধ খাই। বৈশ্বিক তো বটেই সার্কের দেশগুলোর তুলনায়ও অনেক কম। আমাদের গরুর দুধ খাওয়া বাড়াতে হবে। গরুর দুধে অনেক বেশি প্রোটিন আছে। মানুষের মস্তিষ্কের বৃদ্ধির জন্য গরুর দুধ খুবই কার্যকর। এই দুধ উৎপাদনে কৃষককে উৎসাহী করতে হবে। এজন্য ভালো জাতের গাভী তৈরি করতে হবে। আর ভালো জাতের গাভী তৈরি করতে হলে বেসরকারি খাতকে এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এতে সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে। প্রাইভেট সেক্টর তো সরকারের কাছে টাকা চাচ্ছে না। প্রাইভেট সেক্টর একটু নির্বিঘেœ উন্নত জাতের গরু উৎপাদনের নিশ্চয়তা পেলেই হবে। আবারো বলছি এখানে সরকারেরই উদ্যোগ নিতে হবে।

সরকার উদ্যোগ নিলে কৃষির সব উপখাত থেকেই প্রচুর পরিমাণে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যাবে। বেকার শিক্ষিত যুবকরাও এতে স্বাবলম্বী হবে। জিন্স পড়ে যুবকরা কৃষি কাজে নামবে না ঠিক আছে, কিন্তু সব ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার করতে পারলে তারা জিন্সের প্যান্ট পড়েই মেশিনে বসে কাজ করবে। এতে বেকারত্বও দূর হবে। দেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে। এজন্য তরুণদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের উৎসাহী করতে হবে।

মাঠ পর্যায়ে কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র জরুরি

আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে কৃষি বিষয়ক স্নাতক কিংবা ডিপ্লোমা আছে। অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কৃষি বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়। কিন্তু এগুলো তো উচ্চ পর্যায় কিংবা উচ্চবিত্তের মানুষদের জন্য। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে তারা বড় বড় জায়গায় চাকরি করেন। অথবা গবেষণা করেন। তাই সাধারণ কৃষি পর্যায়ে উন্নতির জন্য কিছু প্রশিক্ষণ কেন্দ্র জরুরি। কিংবা আমি বলবো, যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে তাদের জন্য প্রশিক্ষণ দরকার। অনেকে রয়েছেন কিছু দিন বিদেশে থেকে এসে দেশে ভালো কিছু করতে ইচ্ছুক। কিন্তু কী করবে বুঝে উঠতে পারছেন না। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজে লাগানো যেতে পারে। তাদের কাছ থেকে কৃষির জন্য ভালো কিছু পাওয়া সম্ভব। তাহলে প্রশিক্ষিতরা কাজটিকে দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে পারবে। সেটি শুধু কৃষি ক্ষেত্রেই নয়। প্রাণীসম্পদ খাতেও জরুরি।

পোল্ট্রি মুরগি ক্ষতিকর নয়

আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একটি ধারণা রয়েছে যে, দেশীয় একটি মুরগির যেখানে ১ কেজি ওজন হতে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগে সেখানে একটি ফার্মের মুরগি মাত্র এক মাসে এক কেজি, দেড় কেজি ওজন হয় তাহলে এটি হয়তো ক্ষতিকর। কিন্তু আসলে এটি মোটেও ক্ষতিকর নয়। দ্রুত ওজন বৃদ্ধির কারণ হচ্ছে জাত। জাত একটা বড় ফ্যাক্টর বা বিষয। পোল্ট্রি মুরগিকে একটি শঙ্কর জাত হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এ জাতের মুরগিগুলো এভাবেই গ্রো করবে। এটাকে কোনো হরমোন বা ক্ষতিকর অন্যকোনো কিছু দেওয়া হয় না। ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়। কারণ, ভ্যাক্সিন না দিলে ডিজিজ বা অসুখ চলে আসবে। মানুষকে যেভাবে ভ্যাক্সিন দেওয়া হয় ওদেরও সেভাবে ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়। এটি মোটেও ক্ষতিকর না। এটা নির্বিঘ্নে খাওয়া যাবে।

Dr. F H Ansarey
Managing Director & CEO
ACI Motors Limited
ACI Agrolink Limited
Premiaflex Plastics Limited
ACI Agribusinesses

Source: আজকের বাজার: এসএআরএস/আরআর/ ডিএইচ/ ৩১ মে ২০১৭

কৃষককে সমৃদ্ধশালী করতে হবে -ড. এফএইচ আনসারী

Date: 25 May 2017

"মানুষের কাজ মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। তবে যে কাজই করিনা কেন সবার আগে ভাবতে হবে সমাজ ও দেশের কল্যাণের কথা। নিজের উন্নতির পাশাপাশি ভাবতে হবে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নতি। তবেই সফলতা আপনার কাছে অধরা থাকবেনা। আমার জীবনে একটা সফলতা আরেকটা সফলতাকে নেতৃত্ব দিয়েছে। আমি যে কাজই করি, সবার আগে সোসাইটি বা সমাজের লাভের বিষয়টি মাথায় থাকে। এতে করে আমার নিজের যেমন লাভ হয়েছে, সমাজেরও হয়েছে। বাংলাদেশের কৃষি ব্যবসা জগতে 'এসিআই লিমিটেড' এর আজকের যে অবস্থান এবং সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, তা এসব চিন্তাভাবনারই ফসল।

খাদ্য উৎপাদন ছাড়াও জীবিকা অর্জনের বড় একটা অংশ হচ্ছে আমাদের এই কৃষি খাত। অথচ প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবে আমাদের কৃষি ও কৃষকের অবস্থার তেমন পরিবর্তন হচ্ছে না। এজন্য কৃষিতে আমরা সঠিক প্রযুক্তির বিষয়টি গুরুত্ব¡ দিয়েছি। আমরা নতুন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসছি, সেটি কৃষকের কাছে নিয়ে যাচ্ছি এবং তাদেরকে প্রশিক্ষিত করছি। ফলে আগের চেয়ে কৃষির উৎপানশীলতা বাড়ছে। এতে করে কৃষকেরা তাদের কাজে উৎসাহ পাচ্ছেন। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে সমাজ লাভবান হচ্ছে। আর এভাবেই সমাজ লাভবান হওয়ার মাধ্যমে আমরা লাভবান হচ্ছি।

আমি গ্রামের ছেলে। গ্রামের পরিবেশ এবং আলো বাতাসেই আমার বেড়ে ওঠা। তাই খুব কাছ থেকে গ্রামের মানুষকে দেখেছি। তাদের কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছি এবং উপলব্ধি করেছি। প্রযুক্তি ও সঠিক তথ্যের অভাবে কৃষকের অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছে না, সেটি বুঝেছি। আমি ছাত্র জীবনে প্রত্যক্ষভাবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলাম। যে কারণে সমাজটাকে দেখতে, বুঝতে এবং উপলব্ধি করতে আমার জন্য সহায়ক হয়েছে।"

উপরোক্ত কথাগুলো বলছিলেন, বাংলাদেশের কৃষি সেক্টরে স্বনামধন্য বিজনেস আইকন হিসেবে পরিচিত ড. এফএইচ আনসারি। দেশের কৃষি ব্যবসা জগতে তিনি একজন রোল মডেল এবং 'কৃষকের জন্য সম্পদ সৃষ্টি' নামে নতুন এক মিশন নিয়ে কাজ করছেন। কৃষির বিভিন্ন শাখা যেমন- বীজ, সার, ফসলের পরিচর্যা, খামার প্রযুক্তি, কৃষি যন্ত্রপাতি, পশুস্বাস্থ্য ও দেশের পোল্ট্রি শিল্পে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন। তাঁর নতুন মিশনের অনুসরণে, তিনি বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

ড. আনসারী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক -এসিআই মোটরস লিমিটেড, এসিআই এগ্রোলিংক লিমিটেড ও প্রিমিয়াফ্লেক্স প্লাস্টিক লিমিটেড। এছাড়াও তিনি এসিআই এগ্রি বিজনেস -এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। স্বপ্নবান একজন মানুষ। যিনি স্বপ্ন দেখেন একা, কিন্তু বাস্তবায়ন করেন নিজ এবং সমাজের জন্য। স্বপ্ন বাস্তবায়নে থাকেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। কৃষি শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিসমূহে দীর্ঘ ৩৫ বছরেরও অধিক সময় ধরে বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ব্যাক্তি। বিগত ২২ বছর তিনি এসিআই গ্রুপের একজন বিজনেস লিডার হিসেবে কর্মরত আছেন।

ড. আনসারী ১৯৫৬ সনের ২২ এপ্রিল দেশের সিল্ক নগরী হিসেবে পরিচিত রাজশাহী জেলার গোদাগারী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে ১৯৭৭ সনে অনার্স, ১৯৭৮ সনে মাস্টার্স পাস করেন। পরবর্তীতে ইকোলজি (ঊপড়ষড়মু) বা বাস্তুবিদ্যা -এর ওপর পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম নজরুল ইসলাম এবং মাতা নুরজাহান বেগম।

কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৮১ সনে সুইস বহুজাতিক কোম্পানি 'সিবা গেইগি'তে (বর্তমানে সিনজেনটা নামে পরিচিত) একজন বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে। এরপর শ্রম, অধ্যাবসায় এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের মাধ্যমে ১৯৮৫ সনে প্রোডাক্ট ম্যানেজার, ১৯৮৬ সনে ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার এবং ১৯৮৮ সনে ন্যাশনাল মার্কেটিং অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৯২ সনে সেতু কর্পোরেশন (জাপানের বিখ্যাত সুমিটোমো কর্পোরেশন বাংলাদেশী এজেন্ট) -এ  জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে যোগদানের পূর্ব পর্যন্ত তিনি সিবা গেইগি'তে মার্কেটিং অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

১৯৯৫ সনে কৃষি শিল্পে দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি এসিআই লিমিটেড -এ 'হেড অব ক্রপ প্রোটেকশন বিজনেস, হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পরই প্রতিষ্ঠা করেন এসিআই ফর্মুলেশন নামে নতুন একটি কোম্পানি যেখানে ফসল সুরক্ষা  ও মানব স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পণ্য উৎপাদন করা হয়। বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত এবং পরিচিত দুটি পণ্য 'এসিআই এ্যারোসল' এবং 'এসিআই মশার কয়েল' সেখান থেকেই উৎপাদিত হয়।

বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতের বিকাশের কেবল তখন শুরু। ১৯৯৭ সনে পশু স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ওষুধ বিপণনের মাধ্যমে এসিআই পরিবারে তিনি এক নতুন বৈচিত্র্যতা নিয়ে আসেন। ১৯৯৮ সনে ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠা করেন নতুন এক ফ্যাক্টরি যেখানে উৎপাদিত হয় পশু পাখির স্বাস্থ্য ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, ইনজেকশনসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্য।

ঢাকার শিল্প এলাকা হিসেবে পরিচিত বর্তমানে এসিআই লিমিটেড'র কর্পোরেট অফিসের যে নয়নাভিরাম ভবনটি অনেকের কাছেই পরিচিত, সেটি তিনিই প্রতিষ্ঠা করেন ২০০২ সনে। ঠিক তার পরের বছর অর্থাৎ ২০০৩ সনে তিনি জিএমপি (গুড ম্যানুফাকচারিং প্র্যাকটিস) নিয়ম মেনে সেখানে ফার্মাসিউটিক্যালস ফ্যাক্টরির উন্নয়ন করেন। একই বছর প্রতিষ্ঠা করেন 'টেটলি চা' ফ্যাক্টরি যা দেশের চা পানকারীদের কাছে একটি সুপরিচিত নাম।

ভ্যাকুয়াম পদ্ধতিতে পরিশোধিত লবণ উৎপাদন দেশে তিনিই প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন ২০০৪ সনে। একই বছর এসিয়ান কনজ্যুমার কেয়ার এর সাথে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করেন ডাবর ফ্যাক্টরি, যেটি ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত। আবার একই বছরে এসিআই গোদরেজ এগ্রোভেট (প্রাইভেট) লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠা করেন যৌথ উদ্যোগ কোম্পানি; যেটি দেশের সবুজের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জ জেলায় অবস্থিত। সেখান থেকে উৎপাদিত হয় আন্তর্জাতিক মানের পোলট্রি ও পশু খাদ্য যা দেশের পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি নাম। এরপর ২০০৫ সনে পঞ্চগড়ে প্রতিষ্ঠা করেন পোলট্রি ব্রিডিং ফার্ম এবং ময়মনসিংহের ভালুকায় পোলট্রি হ্যাচারি।

২০০৭ সনে বাংলাদেশের কৃষি ব্যবসায় 'কৃষকদের জন্য সম্পদ সৃষ্টি' নামে নতুন এক মিশন গ্রহণ করেন ড. আনসারি। মিশনটিকে সফল করার জন্য কৃষকদের বীজ, সার, কৃষি যন্ত্রপাতি, পণ্য বিনিময় ব্যবসার সমস্যাগুলোর সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠা ক]েরন। ২০০৮ সনে এসিআই পরিবারে যুক্ত করেন প্রিমিয়াফ্লেক্স প্লাস্টিকস নামে নতুন আরো একটি কোম্পানি। বাংলাদেশে ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান।

ড. আনসারী ব্যাক্তিগত জীবনে খুবই সাধারণ। ভালোবাসেন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে এবং লং টেনিস খেলতে। নতুনকে জানা, সেটিকে সম্প্রসারণ এবং বাস্তবায়ন করা তাঁর একমাত্র শখ।

নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য তাঁর পরামর্শ হলো, একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করতে হবে এবং সেটি বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকতে হবে। দেশের কল্যাণে সঠিক লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে গেলে সাফল্য আসবেই।

Source: Prothom Alo, 25 May 2017

দেশে মোটরসাইকেল উৎপাদক হওয়ার সুযোগ আছে - সুব্রত রঞ্জন দাস

Date: 25 May 2017

কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানি করে দীর্ঘদিন ধরে দেশে মোটরসাইকেল বাজারজাত করছে এসিআই মোটরস। গত বছর জাপানি ব্র্যান্ড ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের বাজারজাতের দায়িত্ব পায় তারা। বাংলাদেশের মোটরসাইকেলের বাজারের সম্ভাবনা, উৎপাদন, চালকের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন এসিআই মোটরসের চিফ বিজনেস অফিসার সুব্রত রঞ্জন দাস। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন

প্রথম আলো: ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার কারণ কী?

সুব্রত রঞ্জন দাস: দীর্ঘদিন ধরে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, রিপারের মতো কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানি করে বাজারজাত করে আসছে এসিআই। ওই জায়গায় আমরা যখন সফল হলাম, তখন চিন্তাভাবনা করলাম, ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বাংলাদেশের জন্য ভালো হবে। আমরাই প্রথম এ দেশে ফুয়েল ইনজেকশন প্রযুক্তির মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছি। এ জন্য ইয়ামাহা মোটরসাইকেল পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি খরচ কম। মোটরসাইকেল ব্যবসায় আসার আরেকটি কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশে মোটরসাইকেল উৎপাদক হওয়ার সুযোগ আছে। মোটরসাইকেল উৎপাদকের কাছ থেকে যদি আমরা উৎপাদনের কলাকৌশল শিখতে পারি, সেটি ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে পারব।

প্রথম আলো: ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বিক্রিতে আপনাদের লক্ষ্যমাত্রা কী?

সুব্রত রঞ্জন দাস: গত বছর বাংলাদেশে মোট বিক্রীত মোটরসাইকেলের ৩ শতাংশ ছিল ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের। চলতি বছর আমরা সেটি ৫ শতাংশে নিয়ে যেতে চাই। সারা দেশে বর্তমানে ৩০টি ডিলার আছে। প্রতিটি ডিলারকে আমরা সার্ভিস সেন্টার (সেবাকেন্দ্র) হিসেবে গড়ে তুলেছি। এখানে ইয়ামাহা ডায়াগনস্টিক টুলস আছে। যার মাধ্যমে গ্রাহকেরা মোটরসাইকেল নিয়ে গেলে ল্যাপটপে দেখিয়ে দেবে কোথায় কোথায় সমস্যা আছে। যেটি দামি গাড়ির ওয়ার্কশপে থাকে। গ্রাহকদের এই সুবিধা ছয় মাস পর্যন্ত বিনা মূল্যে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে বর্তমানে প্রতি মাসে আমরা এক হাজারের বেশি মোটরসাইকেল বিক্রি করতে পারছি। অবশ্য মাসের ১৫ তারিখের পর আমাদের কাছে আর মোটরসাইকেল থাকে না। তবে চাহিদা থাকে। কারণ, ছয় মাস আগে ইয়ামাহাতে মোটরসাইকেলের ক্রয়াদেশ দিতে হয় আমাদের। হুট করে চাহিদাপত্র দিলেই মোটরসাইকেল পাওয়া যায় না।

প্রথম আলো: বাংলাদেশের মোটরসাইকেলের বাজার কতটা সম্ভাবনাময়?

সুব্রত রঞ্জন দাস: দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ওপর মোটরসাইকেলের বাজার নির্ভরশীল। দুই-তিন বছর ধরে রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল। চলতি বছর ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। গত বছরও একই রকম প্রবৃদ্ধি ছিল। তবে পাশের দেশগুলোতে প্রতি হাজারে যতজনের মোটরসাইকেল, সেটির তুলনায় বাংলাদেশে অনেক কম। যেমন আমাদের দেশে ১৬১ জনে একজন মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। ভারতে ২০ জনে ১ জন এবং ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় ৪ জনের ১ জন মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। তাই বর্তমানে বাংলাদেশের ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধিকে স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি বলা যেতে পারে।

প্রথম আলো: এসিআই মোটরসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

সুব্রত রঞ্জন দাস: ভবিষ্যতে দেশেই মোটরসাইকেল সংযোজন কারখানা করার পরিকল্পনা আছে আমাদের। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, আমরা খুবই হাই স্পেসিফিকেশনের মোটরসাইকেল বিক্রি করি। এসব মোটরসাইকেলের জন্য খুচরা যন্ত্রপাতি সরবরাহের ভেন্ডর তৈরি হতেই ছয়-সাত বছর লেগে যায়। ইয়ামাহা যে তেলের ট্যাংক ব্যবহার করে, সেটি অনেক ব্র্যান্ডই নিয়ে থাকে। শুধু এই ট্যাংক বানাতেই ৪০০ কোটি টাকার মতো বিনিয়োগ করে কারখানা করতে হয়। এটি ইয়ামাহা করে না, তাদের ভেন্ডরেরা করে থাকে। এখন আমাদের সরকার ভেন্ডরকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে ভেন্ডর উঠে আসতে হবে। আমাদের পরিকল্পনা আছে, নিজেরা না করলেও ইয়ামাহার সঙ্গে যৌথভাবে কারখানা হতে পারে।

প্রথম আলো: মোটরসাইকেল উৎপাদনে বাংলাদেশ পিছিয়ে কেন? প্রতিবন্ধকতা কোথায়?

সুব্রত রঞ্জন দাস: ভারতের হিরো ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল সবচেয়ে জনপ্রিয়। তারা প্রথমে শুরু করেছিল জাপানি ব্র্যান্ড হোন্ডার সঙ্গে। এখন তারা সফল। ফলে যৌথভাবে শুরু না করলে এগোনো খুবই কঠিন। সে জন্য বিদেশি কোম্পানি যাতে বাংলাদেশে আসতে পারে, সেটির ব্যবস্থা করতে হবে। মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলও করে দেওয়া যায়। তা ছাড়া মোটরসাইকেল উৎপাদন করার মতো বাংলাদেশের বাজার যথেষ্ট বড় নয়। দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ মোটরসাইকেল বিক্রি হয়, সেটি দ্বিগুণ হলে একটি মোটরসাইকেল উৎপাদক প্রতিষ্ঠান লাভজনক হতে পারবে। অন্যদিকে বেশির ভাগ ভারতীয় কোম্পানি বাংলাদেশকে বর্ধিত বাজার হিসেবে নিয়েছে।

প্রথম আলো: মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কারণ কী? বাইক আরোহীদের হেলমেট ব্যবহারে কতটা সচেতন হওয়া দরকার বলে আপনি মনে করেন ?

সুব্রত রঞ্জন দাস: মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার বড় কারণ রাস্তার সমস্যা। যেমন যাত্রাবাড়ীর ফ্লাইওভারে এমনভাবে দুটি অংশ জোড়া দেওয়া হয়েছে, যেখানে চাকা পড়লেই দুর্ঘটনা ঘটছে। তা ছাড়া বাস ও ট্রাকচালকেরা মোটরসাইকেলকে কিছু মনেই করেন না। অনেক বাইকচালকের গতিপ্রেম আছে। সেটির জন্যও দুর্ঘটনা ঘটে। তবে হেলমেট থাকলে অনেক দুর্ঘটনা থেকে বাঁচা যায়। হেলমেট ব্যবহারে সচেতনতার জন্য আমরা 'ইউজ হ্যালমেট, রাইড সেফলি' স্লোগান নিয়ে গত ২৬ মার্চ মোটরবাইক শোভাযাত্রা করেছি। এতে ১ হাজার ৩০০ বাইকার অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া এক হাজার মোটরসাইকেলের সঙ্গে হ্যালমেট বিনা মূল্যে দিয়েছি আমরা। সব বাইক আরোহীরই ভালো ব্র্যান্ডের হ্যালমেট কেনা উচিত। ৬০০-৭০০ টাকার নিম্নমানের হেলমেট ব্যবহার করা ঠিক নয়। তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

Search

Login Form